ইউনিফর্মের রং ও পড়ুয়ার সংখ্যা জানতে স্কুলগুলির কাছে তথ্য চাইল শিক্ষা দপ্তর
নিজস্ব সংবাদদাতা :রাজ্যের স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম নিয়ে এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে শিক্ষা দপ্তর। স্কুলের নিজস্ব ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পরিচিতি ফিরিয়ে দিতে ইউনিফর্মের রং নির্বাচনের স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবার রাজ্যের স্কুলগুলির কাছ থেকে পড়ুয়ার সংখ্যা, ইউনিফর্মের রং-সহ একাধিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করল শিক্ষা দপ্তর।জানা গিয়েছে, শিক্ষা দপ্তরের পোর্টালে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা-সহ একটি পিডিএফ ফাইল স্কুলগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। এক জেলা স্কুল পরিদর্শকও এই তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নীল-সাদা ইউনিফর্ম কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই পোশাক চালু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তা বাধ্যতামূলক করা হয়। একইসঙ্গে স্কুলের নিজস্ব ব্যাজের পরিবর্তে ইউনিফর্মে যুক্ত করা হয় বিশ্ববাংলার লোগো।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের বহু ঐতিহ্যবাহী স্কুলের নিজস্ব পোশাকের রং, ব্যাজ ও দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। একরকম ইউনিফর্ম চালু হওয়ায় সেই স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্কুলের নিজস্ব পরিচিতি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলগুলিকে নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী ইউনিফর্মের রং বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আসে। স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের দপ্তরে জমা পড়া বিভিন্ন আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুমোদনও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে, ইউনিফর্ম তৈরির পদ্ধতি নিয়েও স্কুলগুলির একাংশের মধ্যে নতুন দাবি উঠেছে। তাদের বক্তব্য, পোশাক তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থ সরাসরি স্কুলের হাতে দেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ নিজেদের পছন্দমতো উন্নত মানের কাপড় কিনে ইউনিফর্ম তৈরি করতে পারবে। বর্তমানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পোশাক তৈরি ও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অতীতে সেই পোশাকের কাপড়ের গুণমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি স্কুলগুলির একাংশের।তবে ইউনিফর্ম তৈরির অর্থ সরাসরি স্কুলের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হবে কি না, নাকি আগের মতোই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পোশাক তৈরি ও সরবরাহ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে, রাজ্যের স্কুলগুলিতে ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে একরূপতার পরিবর্তে নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে শিক্ষকমহলে। এখন শিক্ষা দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।