ভোটের আগে প্রশাসনে ভূমিকম্প! ডিজিপি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার বদলানোর নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের!

অভিজিৎ সাহা :  বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর পর এবার রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদেও পরিবর্তনের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং হিংসামুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তাঁকে ডিজি ও আইজিপি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।একই সঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকেও সরানো হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর পরিবর্তে নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় নন্দ। অতীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এছাড়াও আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং কলকাতা পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন অজয় নন্দ। পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর প্রথম আইজি হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই পদে থাকা বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয় মুকুন্দ রানাডেকে নতুন এডিজি ও আইজিপি (আইনশৃঙ্খলা) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবুকে।এর আগে রবিবার রাতেই মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরিয়ে ওই পদে সংঘমিত্রা ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সম্মতিসূচক রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। পাশাপাশি যাঁদের পদ থেকে সরানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। এবার রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে। ভোটগণনা ও ফল প্রকাশের দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৪ মে।এদিকে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবকে বদলে দেওয়া হয়েছে, সিপি ও ডিজিকেও সরানো হয়েছে। তবে এতে কোনও লাভ হবে না, বাংলার মানুষের মন বদলানো যাবে না।”প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এরপরই ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনে এই বড়সড় রদবদল করা হল।