বিকেল ৪টেয় বড় ঘোষণা: পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন!
সেখ ওয়ারেশ আলী : পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট আজ রবিবার বিকেল ৪টেয় ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) দপ্তর সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের দিনক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করবে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি-র বিধানসভা নির্বাচনের সূচিও একইসঙ্গে ঘোষণা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, এ বার পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণের দফা আগের তুলনায় অনেকটাই কম হতে পারে। গত কয়েকটি নির্বাচনে ছয় থেকে সাত দফায় ভোটগ্রহণ হলেও ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। তবে এবার দুই বা তিন দফায় ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এমনকি সূত্রের খবর, প্রথম দফার ভোট বাংলা নববর্ষের পরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। দফা কমলেও রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার আশঙ্কা মাথায় রেখে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশেষ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে অধিকাংশ দলই কম দফায় ভোটগ্রহণের দাবি জানায়। বিরোধী দলগুলির তরফে এক বা দুই দফায় ভোটের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কমিশন সূত্রে খবর, সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ভোটের দফা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং নজরদারিও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
কয়েক লক্ষ নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ অনুযায়ী তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করছেন কলকাতা হাই কোর্ট-নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর ভিত্তিতে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। এই তালিকায় থাকা ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে যেসব ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, সেই ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। তবে প্রথম দফার ভোটের আগেই সব নামের নিষ্পত্তি সম্ভব হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।