ভগ্ন আইসোলেটারে পাথর চাপিয়েই চলছে বিদ্যুৎ! সামান্য ঝড়েই অন্ধকারে ডুবে যায় একাধিক গ্রাম, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

নিজস্ব সংবাদদাতা :বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল পরিকাঠামোকে ঘিরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অন্তর্গত পুলশিটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রহাট এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, ক্ষেত্রহাটে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ আইসোলেটার দীর্ঘদিন ধরেই ভগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই ভাঙা আইসোলেটারেই স্থানীয় মানুষজন বাধ্য হয়ে পাথর চাপিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখীর দাপটেই ওই পাথর সরে যায়। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ক্ষেত্রহাট, ধর্মবেড়, পয়াগ-সহ আশপাশের একাধিক গ্রাম। চলতি কালবৈশাখী মরশুমে এবং তীব্র ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)। সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বিষয়টি তমলুক ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজারের নজরে এনেছেন। নারায়ণ চন্দ্র নায়কের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলটি, এসটি এবং হাই-টেনশন লাইনের তার-সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, "শুধু ক্ষেত্রহাট নয়, কোলাঘাট ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।" তিনি আরও জানান, আগামী মঙ্গলবার অ্যাবেকার একটি প্রতিনিধি দল তমলুকের ডিভিশনাল ম্যানেজারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং দ্রুত ভগ্ন আইসোলেটার পরিবর্তনসহ বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সংস্কারের দাবি জানাবে। এলাকাবাসীরও একটাই দাবি—অস্থায়ীভাবে পাথর চাপিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালানোর পরিবর্তে অবিলম্বে ভগ্ন আইসোলেটার বদলে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করুক বিদ্যুৎ দপ্তর। গরম ও বর্ষার মরশুমে যাতে আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সেই দাবিই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।