বিশ্বকাপের আগে ফিফার কড়া নির্দেশ! স্টেডিয়ামে জলের বোতল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
নিজস্ব সংবাদদাতা : আর মাত্র এক সপ্তাহের অপেক্ষা। তারপরই পর্দা উঠতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বকাপের সমস্ত ভেন্যুতে কোনও ধরনের জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ এমন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তুলনামূলকভাবে গরম আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দর্শকদের একাংশের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামে থাকার সময় পানীয় জল সঙ্গে নিয়ে যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এর আগে অনেক স্টেডিয়ামে খালি ও স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও নতুন নির্দেশিকায় সেই সুবিধা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। শুধু জলের বোতলই নয়, কাপ, জার, ক্যানসহ অনুরূপ সব ধরনের পাত্রও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফুটবলার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্বেচ্ছাসেবক এবং দর্শকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও ধরনের দুর্ঘটনা বা ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” ফিফা আরও জানিয়েছে, বিশ্বকাপের একাধিক ভেন্যুতে আগে থেকেই বাইরের বোতল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবার সেই নিয়মকে আরও কঠোর করে সমস্ত স্টেডিয়ামে একযোগে কার্যকর করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দর্শকদের মধ্যে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েকটি ভেন্যুতে ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে গরমের মধ্যে পর্যাপ্ত জল না পেলে দর্শকদের অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সমর্থকদের উদ্বেগ দূর করতে বিশেষ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে আয়োজকরা। তাদের দাবি, প্রতিটি আয়োজক শহরের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্টেডিয়ামের বাইরে ও আশপাশে ‘মিস্টিং স্টেশন’, অতিরিক্ত ফ্যান, হাইড্রেশন স্টেশন এবং কুলিং টেন্টের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ভিতরে বিক্রি হওয়া পানীয় জলের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক আসরে নিরাপত্তা ও দর্শকসুবিধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ফিফা ও আয়োজকদের বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন এই নিয়ম মাঠে কতটা কার্যকর হয় এবং দর্শকরা তা কতটা মেনে নেন, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল বিশ্বের।