পথ-পশুদের খাবার,জল ও টিকা—নতুন ব্যবস্থার পথে রাজ্য সরকার,জানালেন অগ্নিমিত্রা
নিজস্ব সংবাদদাতা :পথকুকুর ও বিড়ালদের খাওয়ানো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে অশান্তি রুখতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা, হাওড়া, সল্টলেক, চন্দননগর-সহ বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় পথপশুদের খাওয়ানোর জন্য নির্দিষ্ট ‘ফিডিং স্পট’ চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ওই জায়গাগুলিতে খাবার ও জলের পাত্রের ব্যবস্থাও করা হবে।অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র-সহ একাধিক পশুপ্রেমী সংগঠনের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব পাওয়ার পর এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট জায়গায় পথপশুদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি যারা নিয়মিত খাওয়াতে আসবেন, তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। খাবার খাওয়ানোর পর সংশ্লিষ্ট জায়গাটি যাতে অপরিষ্কার না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের। অর্থাৎ পশুদের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।পথকুকুরদের খাবার দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পশুপ্রেমীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবাদ নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রে সেই বিবাদ থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ফিডিং স্পট চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট স্পটগুলির তালিকা তৈরি করে সেখানে বোর্ড লাগানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকেও সেই তালিকা জানিয়ে দেওয়া হবে। ফলে কোথায় এবং কীভাবে পথপশুদের খাবার দেওয়া যাবে, তা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হবে।শুধু খাবার দেওয়াই নয়, পথকুকুরদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুরসভার মাধ্যমে পথকুকুরদের অ্যান্টি-র্যাবিস টিকাকরণ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পথপশুদের খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের টিকাকরণও জরুরি, যাতে জলাতঙ্কের মতো রোগের ঝুঁকি কমানো যায় এবং পথচারীদের নিরাপত্তাও বজায় থাকে।রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে পথপশুদের নিয়মিত খাবার ও জল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া বিরোধও নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।