চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার গোপীবল্লভপুরের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো
নিজস্ব সংবাদদাতাবৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ ঝাড়গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল গোপীবল্লভপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধানসভা প্রার্থী অজিত মাহাতোকে। বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া এবং পরবর্তীকালে টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবার বাসিন্দা সজল দাস অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চার দফায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অজিত। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরির ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীকালে অভিযোগকারী টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করা হয়।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অজিত মাহাতো। তবে বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর কাছে ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অজিত মাহাতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।অন্যদিকে, অজিত মাহাতোর পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, অজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হওয়ায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ শাবল দিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে অজিতকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার তাঁকে ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করার কথা। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে পুলিশ। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা, আর্থিক লেনদেনের বিবরণ এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।