‘সেবা সংকল্প’ অভিযানে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা বাড়মংরাজপুরে
অভিজিৎ হাজরা:সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবে উলুবেড়িয়ার প্রান্তিক এলাকার মানুষদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হল। উলুবেড়িয়া ১ ব্লকের উলুবেড়িয়া দক্ষিণ চক্রের হাটগাছা ১ নম্বর অঞ্চলের বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই শিবিরে বিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অভিভাবক-অভিভাবিকা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। শিবিরে মোট ২৯০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজদূত সামন্ত। শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সচেতনতা, সমাজসেবা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কাজ করে আসছেন তিনি। বিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক দূষণ রোধের মতো বিষয়কেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।বিদ্যালয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি ভেষজ উদ্যান। সাধারণ মানুষকে ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গাছ বিতরণ এবং পড়ুয়াদের গাছ লাগিয়ে সারা বছর পরিচর্যার জন্য উৎসাহিত করেন রাজদূত সামন্ত। গাছকে ‘বন্ধু’ হিসেবে ভাবার বার্তা দিতে প্রতি বছর গাছের গায়ে রাখি বেঁধে ‘বৃক্ষসখা জন্মদিন’ পালনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজদূত সামন্ত ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ লাভ করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামে এই সম্মান পাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।স্বাস্থ্য শিবিরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা চৌরঙ্গী। চিকিৎসক ও নার্স এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করে নিওটিয়া ভাগীরথী মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল। বিদ্যালয় সংলগ্ন মংরাজপুর ও বাড়মংরাজপুর গ্রামের বাসিন্দারাও এই স্বাস্থ্য শিবিরে অংশ নেন।রাজদূত সামন্ত বলেন, বিদ্যালয় সংলগ্ন দুই গ্রামই তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত। অনেক বাসিন্দা বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। সেই কারণেই তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।তিনি আরও জানান, তাঁর প্রয়াত পিতা প্রহ্লাদ সামন্তের স্মৃতিতে ‘প্রহ্লাদ সামন্ত স্মৃতি সেবা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে আগামী দিনেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে চান।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজসেবাকে একসূত্রে যুক্ত করে এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।