মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম থেকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি — থিংক নেক্সট মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সুব্রত মিদ্যার
নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরের এক ছোট্ট গ্রামের সাধারণ পরিবারে জন্ম। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক প্রতিকূলতা এবং সংগ্রামকে সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন সুব্রত মিদ্যা। তবে স্বপ্ন দেখার সাহস এবং সেই স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছাশক্তিই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। বর্তমানে তিনি ডিজিটাল জগতের পরিচিত মুখ এবং থিংক নেক্সট মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। খুব অল্প বয়স থেকেই প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যবসা এবং নতুন কিছু গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল সুব্রতর। কলেজে পড়াকালীন সময়েই তিনি নিজের উদ্যোগে কাজ শুরু করেন। যখন অধিকাংশ তরুণ চাকরির নিরাপত্তাকেই ভবিষ্যতের লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন, তখন সুব্রত বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি নেন তিনি। সেই স্বপ্ন থেকেই তৈরি হয় ‘থিংক নেক্সট মিডিয়া’। শুরুর পথ মোটেও সহজ ছিল না। গ্রামের ছেলে হিসেবে বড় শহরের কঠিন প্রতিযোগিতার বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক সমস্যা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং কাজের সুযোগের সীমাবদ্ধতা— সবকিছুর সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁর আত্মবিশ্বাস ভাঙতে পারেনি। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং ক্লায়েন্টদের প্রতি দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
বর্তমানে থিংক নেক্সট মিডিয়া দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল মার্কেটিং ও পিআর সংস্থাগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ভারত ছাড়াও আমেরিকা, কানাডা, সিঙ্গাপুর-সহ একাধিক দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, পিআর সার্ভিস, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এবং বিজনেস অটোমেশন পরিষেবার মাধ্যমে বহু ব্যবসাকে ডিজিটালভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলছে এই সংস্থা। সুব্রত মিদ্যার মতে, সফল হতে গেলে বড় শহরে জন্মানো জরুরি নয়, জরুরি হলো বড় স্বপ্ন দেখার সাহস এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম। তাঁর এই ভাবনাই আজকের প্রজন্মের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্যের নজির গড়ে সুব্রত মিদ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন— ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়। তাঁর এই যাত্রাপথ আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের গর্ব, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ।