১০ বছরে লাখপতি থেকে কোটিপতি! খড়্গপুরে মনোনয়ন জমা দিয়ে সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ দিলীপ ঘোষের, দেড় কোটির সম্পদে চাষের জমিও
নিজস্ব সংবাদদাতা: খড়্গপুর সদর আসনে ফের পুরনো ময়দানে নেমে চমক দিলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ। ২০১৬ সালের পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আবারও তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। শনিবার খড়্গপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় জমা পড়া হলফনামায় উঠে এসেছে তাঁর সম্পত্তির বিস্তারিত হিসাব—আর সেই অঙ্কই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয়।হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রথমবার ভোটে লড়ার সময় দিলীপ ঘোষের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। এক দশক পরে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ গত ১০ বছরে লাখপতি থেকে কার্যত কোটিপতি হয়ে উঠেছেন মেদিনীপুরের এই বিজেপি নেতা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এবার তিনি নিজেকে দেনামুক্ত বলেও জানিয়েছেন।বর্তমানে দিলীপ ঘোষের হাতে রয়েছে নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের কাছেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয়। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে বিনিয়োগের পাশাপাশি পোস্ট অফিসে স্থায়ী আমানত, এমআইএস এবং জীবনবিমাতেও টাকা রেখেছেন দিলীপ। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮০৫ টাকা, আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা।শুধু নগদ বা সঞ্চয় নয়, স্থাবর সম্পত্তির তালিকাও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, দিলীপ ঘোষের নামে ১.৮৮ একর কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি রাজারহাটে শাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠীর তৈরি একটি ১৪০০ স্কোয়ারফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর স্ত্রী রিঙ্কুর নামে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে দম্পতির মোট সম্পদের অঙ্ক সহজেই কোটির ঘর ছুঁয়েছে।রাজনৈতিক দিক থেকেও এই কেন্দ্রটি দিলীপ ঘোষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে খড়্গপুর সদর থেকেই তিনি প্রথম বিধায়ক হন। ২০২৬ সালে আবার সেই পরিচিত আসনে ফিরিয়ে এনে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরে পুরনো সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই দিলীপের উপর ভরসা রাখছে গেরুয়া শিবির। মনোনয়ন জমার দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও, যা রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।চলতি নির্বাচনে তাই লড়াই শুধু ভোটের নয়, দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে তাঁর আর্থিক উত্থানের গল্পও এখন সমানভাবে আলোচনায়।