ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ নজর কাড়ল আইআইটি খড়গপুর–গুগল যৌথ উদ্যোগ ‘অ্যামপ্লিফাই’!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠল আইআইটি খড়গপুর ও Google Research India-র যৌথ উদ্যোগ ‘অ্যামপ্লিফাই ইনিশিয়েটিভ’। সামিট এক্সপোতে বিশেষভাবে প্রদর্শিত এই প্রকল্প ভারত-কেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দিল। এক্সপোর অ্যামপ্লিফাই এরিনা স্টলে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র এবং গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। তাঁকে স্বাগত জানান ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী। এই মুহূর্ত যেন একসঙ্গে তুলে ধরল প্রতিষ্ঠানের গর্বিত উত্তরাধিকার এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ।

নেতৃত্বে গবেষণা, লক্ষ্য ভারতকেন্দ্রিক AI :

অ্যামপ্লিফাই ইনিশিয়েটিভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইআইটি খড়গপুরের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ মৈনাক মণ্ডল। তিনি গুগল-আইআইটি খড়গপুর যৌথ প্রকল্পের প্রধান তদন্তকারী। সহ-প্রধান তদন্তকারী হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ডক্টরেট গবেষক গুঞ্জন বলদ। এক্সপোতে গুগল বেঙ্গালুরুর প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাঙ্কর মধুরিমা মাজি সহ অন্যান্য সহযোগীরাও—যা দুই প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যামপ্লিফাই’?

ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে একমাত্রিক ডেটাসেট দিয়ে কার্যকর AI তৈরি করা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা থেকেই ‘অ্যামপ্লিফাই’-এর সূচনা। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হল বিশেষজ্ঞ-নির্ভর, ছোট পরিসরের কিন্তু উচ্চমানের ডেটাসেট তৈরি, যা কম প্রতিনিধিত্বশীল ও হাইপারলোকাল ভারতীয় প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেয়। এই প্ল্যাটফর্ম ভাষা, সংস্কৃতি, আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য এবং পরীক্ষার কাঠামোকে মাথায় রেখে শিক্ষামূলক পরামর্শ তৈরির সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি ভারতীয় অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে সময়গত ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার দিকেও জোর দেয়। বৃহৎ ভাষা মডেলগুলি যে ক্ষেত্রে অঞ্চল-নির্দিষ্ট অনুশীলন ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে পিছিয়ে থাকে, সেই জ্ঞানের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পূরণ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

শিল্পমহলে ইতিবাচক সাড়া :

এক্সপো চলাকালীন শিল্পক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দেখা যায়। সহযোগিতামূলক ডেটা সংগ্রহ এবং সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল AI উন্নয়নের বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের AI সিস্টেমকে আরও দৃঢ় ও প্রসঙ্গ-সচেতন করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল এবং বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক AI উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আইআইটি খড়গপুর। প্রযুক্তির পরবর্তী অধ্যায়ে ভারতীয় প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্রে রেখে এগোনোর যে বার্তা এই উদ্যোগ দিল, তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।