নববর্ষে ‘পরিবর্তনের ডাক’ রাজ্যপালের, পাল্টা তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র; বাংলার অর্থনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলার নববর্ষের আবহেই লোকভবনের এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের অতীত গৌরব ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে পরিবর্তনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তাঁর বক্তব্য, একসময় দেশের অর্থনীতির শীর্ষে থাকা পশ্চিমবঙ্গ আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। আর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবারের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের শীর্ষ তিন অর্থনীতির অন্যতম। তাঁর কথায়, ষাটের দশকে দেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশেরও বেশি অবদান আসত পশ্চিমবঙ্গ থেকে। অথচ বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে রাজ্যের অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে প্রায় ৫ শতাংশে।
পাশাপাশি স্কুল-কলেজে নাম নথিভুক্তকরণের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে পরিবর্তনের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবর্তন আকাশ থেকে নেমে আসবে না, তা মানুষের হাত ধরেই গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, যখন দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। একসময় মাথাপিছু আয়ে প্রথম সারিতে থাকা রাজ্যকে আজ কমপক্ষে ১৫টি রাজ্য ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।রাজ্যপালের এই মন্তব্যের কিছু পরেই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সভা থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কারও নাম না করেই তিনি বলেন, “বাংলার লাট সাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, তিনি আজ বিবৃতি দিয়েছেন। নববর্ষে বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে আমাকে আক্রমণ করেছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবেই রাজ্যপালকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের ইঙ্গিতেরও জবাব দেন মমতা। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক বিষয় থাকায় আইন-শৃঙ্খলা পুরোপুরি রাজ্যের হাতে নেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যপাল ও নবান্নের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয়। যদিও ২১ মার্চ রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন, তবে নববর্ষের দিন রাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যপালের এই মন্তব্য সেই সৌজন্যের আবহে নতুন করে শীতলতা তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।