ভালোবাসা, আশীর্বাদ আর আবেগে ডিএভি পাবলিক স্কুল মেদিনীপুরে গ্র্যান্ড প্যারেন্টস ডে!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দাদু-ঠাকুমাদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনও একটি দিন যথেষ্ট নয়। কারণ, তাঁদের স্নেহ, আশীর্বাদ ও ভালোবাসা জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তেই নাতি-নাতনিদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তাঁদের হাত ধরেই ছোটদের বেড়ে ওঠা, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও আশীর্বাদেই জীবনের পথ চলা। সেই সম্পর্কের উষ্ণতা ও ভালোবাসাকে উদযাপন করতেই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান।নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন দাদু-ঠাকুমা এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।সকালে নির্দিষ্ট সময়ে নাতি-নাতনিদের হাত ধরে বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন দাদু-ঠাকুমারা। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা চন্দনের ফোঁটা ও গোলাপ ফুল দিয়ে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এরপর পবিত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মঙ্গলদীপ প্রজ্বলন এবং ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একের পর এক পরিবেশনায় ফুটে ওঠে দাদু-ঠাকুমাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। খুদে পড়ুয়াদের গান, নাচ ও বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত প্রবীণরা। তাঁদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, স্মৃতিচারণ এবং ভালোবাসার কথাও অনুষ্ঠানে উঠে আসে।
তবে দিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নাতি-নাতনিদের নিজেদের হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড দাদু-ঠাকুমাদের হাতে তুলে দেওয়া। রং, ছবি ও নানা কারুকার্যে সাজানো সেই কার্ডে খুদেরা নিজেদের মতো করে লিখেছিল প্রাণের কথা, আদরের কথা। প্রিয় নাতি-নাতনিদের হাত থেকে এমন উপহার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দাদু-ঠাকুমারা।অনুষ্ঠানের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ে তৈরি ‘Blessing Tree’। সেখানে দাদু-ঠাকুমারা তাঁদের মনের কথা, শুভেচ্ছা ও আশীর্বাণী লিখে রেখে যান। ভালোবাসা ও আশীর্বাদে সাজানো সেই ‘Blessing Tree’ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।এই বিশেষ দিনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অধ্যাপক এবং সমস্ত কর্মীরা উপস্থিত দাদু-ঠাকুমাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠান শেষে নাতি-নাতনিদের হাত ধরে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে আসেন দাদু-ঠাকুমারা।