জাতীয় পোষ্য দিবসে বিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, ছোটদের মনে প্রাণীর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধের পাঠ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং যত্নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে জাতীয় পোষ্য দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার, ১০ এপ্রিল , বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত হল বিশেষ ‘পেট ডে’ অনুষ্ঠান। আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কচি শিক্ষার্থীদের মনে প্রাণীদের প্রতি দয়া, দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ গড়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয় বিশেষ ‘পেট কর্নার’, যেখানে বিভিন্ন ধরনের পোষ্য প্রাণী সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তাদের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। নার্সারি থেকে UKG-এর শিক্ষার্থীরা পেট কর্নার ঘুরে দেখার পর নিজেদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে প্রাণী-ভিত্তিক নানা মজাদার কার্যক্রমে অংশ নেয়। পাশাপাশি প্রাণীদের সঙ্গে কীভাবে ইতিবাচক আচরণ করতে হয়, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়।শিক্ষকেরা শিশুদের বিভিন্ন প্রাণীর নাম, খাদ্যাভ্যাস এবং তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সহজ ভাষায় জানিয়ে শেখার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পথপ্রাণীদের খাবার দেওয়া, তাদের রক্ষা করা এবং সব জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।সৃজনশীল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নার্সারি শ্রেণির পড়ুয়ারা তুলা দিয়ে তৈরি করে তুলতুলে খরগোশ। LKG ‘A’-এর শিক্ষার্থীরা ভেড়ার আদলে পেন স্ট্যান্ড, LKG ‘B’-এর পড়ুয়ারা রঙিন কাগজ দিয়ে কুকুরের ছবি, UKG ‘A’-এর শিক্ষার্থীরা প্রাণীর কাট-আউট দিয়ে হেয়ারব্যান্ড, UKG ‘B’ একবার ব্যবহারযোগ্য বাটি দিয়ে কচ্ছপ, এবং UKG ‘C’ কাগজের প্লেট, উলের সুতো ও রঙিন কাগজ দিয়ে জেলিফিশের নকশা তৈরি করে।
এই সমস্ত সৃজনশীল উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তোলে।অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সকাল ৮:১৫ মিনিটে বেনাপুরের একটি গোশালা পরিদর্শনে যায়। সেখানে তারা গরুর পরিচর্যা, তাদের খাদ্য ও কৃষিকাজে গরুর গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বিদ্যালয়ে ফিরে তাদের জন্য একটি PPT প্রদর্শন করা হয় এবং পরে তারা আবার পেট কর্নার ঘুরে দেখে নিজেদের শেখাকে আরও সমৃদ্ধ করে।সমগ্র অনুষ্ঠানটি শুধু পোষ্য প্রাণী রাখার আনন্দই তুলে ধরেনি, বরং ‘পোষ্য কিনবেন না, দত্তক নিন’—এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাকেও সামনে এনেছে। ছোটদের মনে প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ, প্রকৃতির প্রতি সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীল মনোভাব গড়ে তুলতে এই আয়োজন নিঃসন্দেহে ছিল অত্যন্ত সফল ও প্রশংসনীয়।