ঘরের মাঠে লখনউকে ধাক্কা,প্রসিদ্ধের ৪ উইকেট,গিল-বাটলারের ব্যাটে দাপুটে গুজরাত!
নিজস্ব সংবাদদাতা : লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে ঘরের মাঠে ফিরেও হার এড়াতে পারল না লখনউ সুপার জায়ান্টস। অ্যাওয়ে ম্যাচে টানা জয়ের ধারা বজায় রাখলেও নিজেদের মাঠে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে কার্যত অসহায় দেখাল ঋষভ পন্থের দল। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বিধ্বংসী বোলিং এবং অধিনায়ক শুভমন গিল ও জস বাটলারের দুরন্ত অর্ধশতরানে ৮ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নিল গুজরাত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৪ রান। জবাবে গুজরাত ১৮.৪ ওভারেই ১৬৫/৩ তুলে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয়। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে লখনউকে টপকে উপরের দিকে উঠে এল গিলের দল। লখনউয়ের ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল আগ্রাসী। মিচেল মার্শ প্রথম থেকেই হাত খুলে খেললেও মাত্র ১১ রান করে কাগিসো রাবাডার শিকার হন। এরপর এডেন মার্করাম কিছুটা লড়াই করেন। ২১ বলে ৩০ রান করেন তিনি। ঋষভ পন্থও ১৮ রান যোগ করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। একের পর এক উইকেট তুলে লখনউয়ের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন তিনি। নিকোলাস পুরান, আয়ুষ বাদোনি থেকে শুরু করে শেষ দিকে নামা ব্যাটারদেরও চাপে রাখেন গুজরাতের বোলাররা। চার ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার হন প্রসিদ্ধ। তাঁর দুরন্ত স্পেলই লখনউকে বড় স্কোর থেকে বঞ্চিত করে।
১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখায় গুজরাতকে। সাই সুদর্শন দ্রুত আউট হলেও এরপর শুভমন গিল ও জস বাটলার ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। দু’জনেই ঝুঁকিহীন অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে লখনউয়ের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেন। শুভমন ৪০ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে খেলেন একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট, অন্যদিকে বাটলার ৩৭ বলে ৬০ রান করে জয়ের ভিত আরও মজবুত করেন। এই জুটিই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারণ করে দেয়। শেষ দিকে দু’জন দ্রুত আউট হলেও তখন ম্যাচ গুজরাতের হাতের মুঠোয়। শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২০ রান। ক্রিজে থাকা রাহুল তেওয়াতিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সহজেই দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। প্রিন্স যাদবের এক ওভারে ১৪ রান উঠে গেলে ম্যাচের বাকি উত্তেজনাও শেষ হয়ে যায়। এই জয়ের ফলে গুজরাত টাইটান্স আবারও দেখিয়ে দিল, মাঝের ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের শাসন এবং টপ অর্ডারে গিল-বাটলারের ধারাবাহিকতা থাকলে তারা যে কোনও দলকে চাপে ফেলতে পারে।