মায়ের ছবি পাননি ছোটবেলায়, স্বপ্নে মাকে খুঁজে পেয়ে গড়লেন বিদ্যাপীঠ

প্রেমচাঁদ ফৌজদার:জন্মের মাত্র এক মাসের মধ্যেই মাকে হারিয়েছিলেন অমর পাঁজা। প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠায় মায়ের কোনও ছবিও ছিল না তাঁর কাছে। ছোটবেলায় মায়ের মুখ দেখার আকুলতা নিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। সেই অভাবের স্মৃতি এবং স্বপ্নে দেখা এক মাতৃমূর্তিকে ঘিরেই পরবর্তীকালে মা সারদার প্রতি গভীর টান তৈরি হয় বলে জানান বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কেনেটি সন্তাশ্রমের শ্রী শ্রী মা সারদা বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা অমর পাঁজা।অমর পাঁজা জানান, তাঁর বাল্যবিধবা দিদি আশালতা তাঁকে মানুষ করেন। ছোটবেলায় মায়ের ছবি দেখতে চাইলেও সেই সময় তাঁদের পরিবারের কাছে কোনও ছবি ছিল না। এক রাতে স্বপ্নে এক নারী তাঁকে কোলে নিয়ে আদর করে বলেছিলেন, “কেঁদো না বাবা, আমি তোমার মা।” পরে তাঁর দাদা ঘরে মা সারদার ছবি-সহ একটি ক্যালেন্ডার টাঙালে সেই ছবিকে স্বপ্নে দেখা মাতৃমূর্তি হিসেবে চিনতে পারেন বলে জানান তিনি।মাধ্যমিকের পর কাজের সন্ধানে বর্ধমানে গাড়ি চালাতেন অমর। পরে ১৯৮৮ সালে ট্রাক্টর কিনে নিজেই তা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। সেই সময় কিছু জমিও কেনেন। পরবর্তীতে কয়েকজন সন্ন্যাসীর পরামর্শে মা সারদার নামে কিছু করার উদ্যোগ নেন এবং সেখান থেকেই কেনেটি সন্তাশ্রমে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী শ্রী মা সারদা বিদ্যাপীঠ।বর্তমানে বিদ্যালয়টি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করায়। অমর পাঁজার দাবি, বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রিভুক্ত হলেও এখনও সরকারি অনুদান পায়নি। নিজের অর্থেই বিদ্যালয়ের খরচ চালানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের সামান্য সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।ভবিষ্যতে সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর লক্ষ্য, প্রত্যন্ত এলাকার আরও বেশি শিশুর কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।একসময় মায়ের ছবির জন্য আকুল সেই শিশুই আজ অন্য শিশুদের জন্য তৈরি করছেন শিক্ষার ঠিকানা—শ্রী শ্রী মা সারদা বিদ্যাপীঠ।