হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতায় নজরদারি বাড়াল স্বাস্থ্য দফতর, গাফিলতিতে কড়া শাস্তির ইঙ্গিত
নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে। পর্যাপ্ত সাফাই সরঞ্জাম ও কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন হাসপাতালের ওয়ার্ড, শৌচাগার ও করিডরে অপরিচ্ছন্নতার ছবি দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে এ বার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ সামনে আসার পরেই রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের উপস্থিতিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শুধু পুরুলিয়ার হাসপাতাল নয়, রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্ধমান, কোচবিহার, মালদহ এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ জানানো হয়। পর্যাপ্ত কর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা সত্ত্বেও হাসপাতালগুলিতে কেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর।হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শৌচাগার, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং করিডর দিনে অন্তত তিন বার পরিষ্কার করতে হবে। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে যাতে নিয়মিত সাফাই হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি যাতে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু নিয়মিত সাফাইয়ের নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতালগুলিতে বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের আচমকা পরিদর্শন বা ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা না করে এই পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।নির্দেশ অনুযায়ী, আচমকা পরিদর্শনের পরে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে হবে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও তাঁদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সাফাইয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।হাসপাতালের সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এজেন্সিগুলিকেও কড়া বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। পরিদর্শনের সময় সাফাইকর্মীদের কাজে গাফিলতি ধরা পড়লে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে শো-কজ় করা হবে। সেই নোটিসের জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে এবং পরপর তিন বার শো-কজ়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির টেন্ডার বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও সাফাই সংস্থাগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কারণ, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্য বা শৃঙ্খলার বিষয় নয়, রোগী ও তাঁদের পরিজনদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গেও তা সরাসরি যুক্ত। এ বার নির্দেশিকা জারির পর হাসপাতালগুলিতে সাফাইয়ের মান কতটা উন্নত হয় এবং নজরদারির ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সে দিকেই নজর থাকবে।