মেদিনীপুরে নেশামুক্তি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য দপ্তর-পুলিশের অভিযান, মিলল একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ!
সেখ ওয়ারেশ আলী : এবার প্রশাসনের নজরে মেদিনীপুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলি। বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, নির্ধারিত নিয়ম এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) মেনে কেন্দ্রগুলি পরিচালিত হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।বুধবার সকাল থেকেই মেদিনীপুর শহরের একটি জননী নেশামুক্তি কেন্দ্রে অভিযান চালান স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তারা।
দীর্ঘক্ষণ ধরে কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়। সেই সময়ই একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের।অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি নির্ধারিত SOP-ও যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
এরপর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময়সীমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি, অনুমোদন ও ছাড়পত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই নেশামুক্তি কেন্দ্র পরিচালনা করতে হবে। নিয়ম না মানলে প্রয়োজনে কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপও করা হতে পারে।
যদিও প্রশাসনের অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, আধিকারিকদের উল্লেখ করা কিছু নথি ও অনুমোদন যে প্রয়োজনীয়, সে বিষয়ে তাঁদের জানা ছিল না।তবে বুধবারের অভিযানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে জেলার সমস্ত নেশামুক্তি কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হবে। কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রশাসনের এই নজরদারির ফলে জেলার নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলিতে নিয়মকানুন কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।