মেদিনীপুর মেডিকেলে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন-কাণ্ডে নড়েচড়ে স্বাস্থ্য দপ্তর, তদন্তে রাজ্য প্রতিনিধি দল

সেখ ওয়ারেশ আলী: মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্যের আবহে বৃহস্পতিবার তদন্তে নামে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দল দুপুর প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে মেডিকেল কলেজে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক ও নথি যাচাইয়ের কাজ। তদন্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. মৌসুমী নন্দী, সুপার ডা. ইন্দ্রনীল সেন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সৌম্যশঙ্কর সারঙ্গী-সহ হাসপাতালের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

তদন্তকারী দল অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত স্যালাইনের ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, রোগীকে স্যালাইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রোগী, তাঁর পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখে রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।উল্লেখ্য, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লীর বাসিন্দা মানসী দে গত ৫ জুলাই স্ট্রোক-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ, বুধবার তাঁকে একটি স্যালাইন দেওয়ার পর তাঁর বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করে দাবি করেন, সেটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপরই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধি দল এবং জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার তদন্ত ও বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি কিংবা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিষেবা ও ওষুধ-স্যালাইনের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রোগীর পরিবার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মহলের।