হরমুজে ‘হিলিয়াম অবরোধ’! এমআরআই থেকে এআই চিপ—বিশ্বজুড়ে থমকে যেতে পারে প্রযুক্তির চাকা
নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের অভিঘাত এবার শুধু তেল-গ্যাসে সীমাবদ্ধ নেই, আঘাত হেনেছে আধুনিক চিকিৎসা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অন্যতম প্রাণভোমরা হিলিয়াম সরবরাহে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্যিক হিলিয়াম পরিবহন আটকে গেছে, যার বড় অংশ আসে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চল থেকে। ফলে এমআরআই স্ক্যান পরিষেবা, চিপ উৎপাদন এবং এআই অবকাঠামো বড় ধাক্কার মুখে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হিলিয়াম এমন একটি গ্যাস যার তাৎক্ষণিক বিকল্প কার্যত নেই। তরল অবস্থায় এটি এমআরআই মেশিনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটকে প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা রাখে। সরবরাহে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হলে হাসপাতালগুলিতে এমআরআই পরিষেবা ব্যাহত হওয়া সময়ের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ নতুন মেশিন ইনস্টলেশন থেকে রিফিল—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু চিকিৎসাই নয়, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও বিপদের ঘণ্টা। আধুনিক চিপ উৎপাদনে হিলিয়াম ব্যবহৃত হয় আল্ট্রা-কুলিং, লিথোগ্রাফি, লিক ডিটেকশন এবং উচ্চ-নির্ভুলতা প্রসেসিংয়ে। এআই সার্ভার, ডেটা সেন্টার, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ—সবকিছুর মূলে থাকা এই শিল্পে যদি হিলিয়াম সরবরাহ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তবে আবারও দেখা দিতে পারে বৈশ্বিক চিপ সংকট। বিশেষত এআই যুগে এই ধাক্কা বিশ্ব প্রযুক্তি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে কাতারের উৎপাদন ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর। বিশ্ববাজারে মোট হিলিয়ামের প্রায় ৩০–৩৩ শতাংশ সরবরাহ করে কাতার, আর তার বড় অংশই হরমুজ হয়ে বেরোয়। এখন সেই রুটে আটকে রয়েছে ২০০-রও বেশি বিশেষায়িত হিলিয়াম কনটেইনার, যা দ্রুত বিকল্প পথে পাঠানোও সম্ভব নয়। কারণ এই গ্যাস সংরক্ষণ অত্যন্ত কঠিন—দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে তা বাষ্পীভূত হয়ে ক্ষতি হয়।ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। দেশের হিলিয়াম চাহিদার প্রায় ১০০ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। ফলে হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের হাসপাতাল, গবেষণাগার, মহাকাশ প্রকল্প এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ক্ষেত্রেও চাপ বাড়বে। বাজারে ইতিমধ্যেই হিলিয়ামের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে চিকিৎসা খরচ থেকে ইলেকট্রনিক্সের দাম—সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।