সিজেপির সংসদ অভিযানে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’! কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চাইল হাই কোর্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা :শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযান ঘিরে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’-এর অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চাইল দিল্লি হাই কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশকে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ভিডিয়োগ্রাফি এবং অন্যান্য নথি ও রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ২০ জুলাই শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও।এই পরিস্থিতিতে সিজেপির ডাকা মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে বড় সংখ্যক ছিলেন পড়ুয়া। অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। এমনকি মহিলা ও শিশুদের উপরও লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি হাই কোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী এন হরিহরণ, গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং বিকাশ সিংহ। তাঁদের অভিযোগ, সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তাঁদের উপর পুলিশ ‘অতিরিক্ত’ বলপ্রয়োগ করেছে। এমনকি কিছু পুলিশ আধিকারিক সাদা পোশাকে লাঠি হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। সেই লাঠিতে পেরেক লাগানো ছিল বলেও দাবি করেন মামলাকারীদের আইনজীবীরা।এছাড়াও দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডিসি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় এক মহিলাকে চড় মারার অভিযোগও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।তবে কেন্দ্রের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা ‘বর্বরতা’র অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনে কেউ আহত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।কেন্দ্রের এই যুক্তি অবশ্য খারিজ করে দেয় আদালত। প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, এটি কোনও ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয় নয়। তাই প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে আলাদা করে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। এই কারণেই আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে জবাব চেয়েছে।