হকার মুক্ত শিয়ালদহ-হাওড়া! রেলের অভিযানে উধাও অবৈধ স্টল, স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা!
অভিজিৎ সাহা: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এবার বড়সড় বদলের ছবি ধরা পড়ল শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বরে। দীর্ঘদিনের ভিড়, দখলদারি এবং অবৈধ স্টলের জট কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে হকার উচ্ছেদ অভিযান। রেলের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিত্যযাত্রীরা।রবিবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশনের ১ থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বহুদিনের পরিচিত হকারদের ভিড় অনেকটাই উধাও। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন কর্তৃপক্ষ।রেল সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন অংশে বেআইনিভাবে স্টল গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রভাব খাটিয়ে স্টেশন এলাকায় হকারি ও তোলা আদায়ের রমরমা চলছিল। এর জেরে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়তে হত সাধারণ যাত্রীদের।শিয়ালদহ ডিআরএম অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেই হকারদের নোটিস দিয়ে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছায় স্টল সরিয়ে নেন। তবে যারা নির্দেশ মানতে গড়িমসি করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের।যদিও সম্পূর্ণভাবে হকারমুক্ত হয়নি স্টেশন চত্বর। নির্দিষ্ট ব্যারিকেডের বাইরে এখনও কিছু হকারকে ব্যবসা করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন যাত্রী চলাচলের পথ অনেকটা ফাঁকা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে কিছু মানুষের জীবিকার ব্যবস্থাও বজায় রাখা হয়েছে বলে মত একাংশের।অন্যদিকে, শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশন চত্বরে চলে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাথ দখল করে থাকা প্রায় ১৫০টি ‘অবৈধ’ স্টল বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। রেলের বক্তব্য, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হাওড়া এলাকাতেও আগেই একাধিকবার নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও দখলদারি কমেনি। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতের অভিযানে কড়া পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।এই অভিযানে খুশি নিত্যযাত্রীদের বড় অংশ। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর স্টেশন চত্বরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যাচ্ছে। তবে সমাজের একাংশের মতে, শুধুমাত্র উচ্ছেদ নয়, হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত নতুন সরকারের।