ভোররাতে মেয়ের সামনেই স্বামীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন! গ্রেফতার স্ত্রী, চাঞ্চল্য বাঁকুড়ায়

নিজস্ব সংবাদদাতা :ঘুম ভাঙতেই বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে এল ভারী কিছু পড়ার শব্দ। কী ঘটেছে বুঝতে না পেরে ভাইয়ের ঘরের দিকে ছুটে যান দাদা। কিন্তু ঘরের সামনে পৌঁছতেই কুড়ুল হাতে তেড়ে আসেন ভাইয়ের স্ত্রী! মুহূর্তের মধ্যেই সামনে আসে এক ভয়াবহ ঘটনা। ঘরের ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ভাই উজ্জ্বল চক্রবর্তী। গলায় কুড়ুলের একাধিক আঘাত। তাঁকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে স্ত্রী ঝুমা চক্রবর্তীকে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার পখন্না গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে পখন্না গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল চক্রবর্তীর সঙ্গে মনোহর গ্রামের ঝুমার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা নিয়ে আপত্তি ছিল ঝুমার। ভাইদের থেকে আলাদা হয়ে সংসার করার জন্য তিনি উজ্জ্বলকে বারবার চাপ দিতেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিবাদ বাধত।ঘটনার দিন ভোরে আচমকাই বাড়ির ভিতর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান উজ্জ্বলের দাদা সনৎ চক্রবর্তী। প্রথমে বাড়ির কোনও অংশ ভেঙে পড়েছে বলে মনে করেছিলেন তিনি। পরে ভাইয়ের ঘরের দিকে এগোতেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে কুড়ুল হাতে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন ঝুমা। তাঁকে আটকাতে গেলে সনৎ চক্রবর্তীর হাতেও কুড়ুলের কোপ লাগে।এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বড়জোড়া থানার পুলিশ। ঘরের ভিতর থেকে উজ্জ্বলের নিথর, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে কুড়ুলের আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।সনৎ চক্রবর্তীর অভিযোগ, পারিবারিক অশান্তির জেরেই তাঁর ভাইকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন ঝুমা। পরিবারের দাবি, নিজের মেয়ের সামনেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় গোটা গ্রামে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।পুলিশ অভিযুক্ত ঝুমা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদই কি এই হত্যাকাণ্ডের কারণ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।