দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘সিংহম’ (IAS)তুকারাম মুন্ডে! কড়া পদক্ষেপে ফের চর্চায় মহারাষ্ট্রের এই আমলা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ—এই কারণেই বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর কমিশনার আইএএস (IAS) তুকারাম মুন্ডে। জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্যের গুণমান নিয়ে কোনওরকম আপস করতে নারাজ এই আমলার কঠোর পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে দেশবাসীর।কখনও ভেজাল পনিরের বিরুদ্ধে অভিযান, কখনও আবার নামী-দামি খাবারের সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—তুকারামের নজর এড়ায়নি কোনও অনিয়মই। তাঁর কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের তালিকায় রয়েছে বড় বড় খাদ্য সংস্থাও। এমনকী বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠলে রেয়াত করা হয়নি জনপ্রিয় তারকাদের।

বিমল পান মশলার পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগে অভিনেতা শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ এবং টাইগার শ্রফকে আইনি নোটিস পাঠানোর খবরেও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তুকারাম। তিন তারকাকেই ওই বিজ্ঞাপনের প্রচার থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।তবে তুকারাম মুন্ডের গল্প শুধু কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের নয়, এর পিছনে রয়েছে লড়াই ও সংগ্রামের দীর্ঘ কাহিনি।প্রবল দারিদ্রের মধ্যে বেড়ে ওঠা তুকারাম ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে চাষের জমিতে কাজ করতেন। পরিবারের আয় বলতে সপ্তাহে একদিন সবজি বিক্রি। সেই পরিস্থিতি থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল—একদিন প্রশাসনের ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেবেন। প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালে আইএএস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।প্রায় দুই দশকেরও বেশি প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

তবে তাঁর সক্রিয়তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থানের কারণে কর্মজীবনে বারবার বদলির মুখেও পড়তে হয়েছে। প্রায় ২১ বছরের কর্মজীবনে বহুবার বদলি হয়েছেন তুকারাম।যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানেই নিয়মভঙ্গ, দুর্নীতি কিংবা প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বলে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

তাই আমলা মহলে তিনি যেমন কঠোর ও আপসহীন আধিকারিক হিসেবে পরিচিত, তেমনই সাধারণ মানুষের একাংশের কাছেও তাঁর ভাবমূর্তি ‘সৎ ও সাহসী’ প্রশাসকের।আইএএস (IAS) তুকারামের বার্তা স্পষ্ট—জনস্বাস্থ্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস নয়। আর সেই কারণেই মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক মহলে তাঁর নাম এখনও আলাদা করে উচ্চারিত হয়।