“টাকা পেলে এমন হতো না!”—দিল্লি ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজস্থানের অলওয়ারে একের পর এক নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দু’টি ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ২২ বছরের যুবক রাহুল মিনা। দ্বিতীয় ঘটনায় খুনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয়, এত গুরুতর অপরাধ স্বীকার করার পরও অভিযুক্তের মধ্যে অনুতাপের লেশমাত্র নেই—উল্টে নিজের অপরাধের সাফাই গাইছে সে।তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাহুল একেবারেই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলেছে। তার বক্তব্য, সে মূলত টাকা চাইতেই গিয়েছিল। অভিযুক্তের কথায়, “দিদি টাকাটা দিয়ে দিলে এমন কিছুই ঘটত না।” পরে আবার বলে, “সব কিছুই যেন হঠাৎ করেই হয়ে গেল।” এই নির্লিপ্ত ও নির্মম মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়া খেলার নেশাই ধীরে ধীরে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয় রাহুলকে। ওই নেশার কারণে আগেই কাজ হারাতে হয় তাকে। শুধু তাই নয়, জুয়ার টাকা জোগাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার করেছিল সে। গ্রামবাসীদের কাছেও তার এই নেশার কথা অজানা ছিল না।ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২২ বছরের এক তরুণীর বাড়িতে আচমকাই ঢুকে পড়ে রাহুল। অভিযোগ, ভারী বস্তু দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে তরুণীকে অচেতন করে দেয় সে। তারপর সেই অবস্থাতেই ধর্ষণ করা হয়। এরপর নির্মমভাবে খুন করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নিজের রক্তমাখা পোশাক ফেলে দিয়ে মৃতার ভাইয়ের জামা পরে পালানোর চেষ্টাও করে সে।পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীর দেহ দেখতে পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।এই ঘটনায় তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযুক্তের পালানোর দিক শনাক্ত করে। একইসঙ্গে একটি অটোর খোঁজও মেলে, যেটিতে করে সে পালিয়েছিল বলে অনুমান। অটোচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সে অভিযুক্তকে একটি হোটেলে নামিয়ে দিয়েছিল। এরপর সেই সূত্র ধরেই হোটেলে হানা দিয়ে রাহুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই বাড়ির প্রাক্তন কাজের লোক ছিল। সেই সূত্রেই তার কাছে বাড়ির একটি অতিরিক্ত চাবি ছিল, যা ব্যবহার করেই সে ভিতরে প্রবেশ করে বলে দাবি পুলিশের।এই নৃশংস ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একইসঙ্গে অভিযুক্তের নির্লজ্জ মানসিকতা নতুন করে ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদেরও।