আইআইটি মাদ্রাজের সঙ্গে আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনীদের উদ্যোগ, ₹১,০০০ কোটির ডিপটেক ফান্ড!
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনের সঙ্গে যখন দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের সংযোগ ঘটে, তখন গবেষণাগারের যুগান্তকারী ধারণাগুলি বাস্তব ক্ষেত্রে দেশ গঠনের উদ্যোগে রূপ নেওয়ার নতুন সুযোগ পায়। ভারতের ডিপটেক বা গভীর প্রযুক্তি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগে গর্বিত আইআইটি খড়গপুরও। প্রতিষ্ঠানের দুই বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র ভাস্কর মজুমদার এবং রতুন লাহিড়ীর উদ্যোগে ইউনিকর্ন ইন্ডিয়া ভেঞ্চারস (UIV), আইআইটি মাদ্রাজের সঙ্গে অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠা করেছে IITM Unicorn Frontier Fund 1। এটি ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়-উদ্যোগে গড়ে ওঠা, সেবি-নিবন্ধিত ডিপটেক ফান্ড বলে জানানো হয়েছে। ফান্ডটির ঘোষিত মূলধনের পরিমাণ ₹১,০০০ কোটি।সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে ফান্ডটির প্রথম ক্লোজের ঘোষণা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ₹৪৫৩ কোটি মূলধন সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে এবং কোনও সরকারি মূলধন ছাড়াই এই প্রথম ক্লোজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি. কামাকোটি এবং ইউনিকর্ন ইন্ডিয়া ভেঞ্চারসের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও।এই মাইলফলকের সঙ্গে ফান্ডটির প্রথম চারটি ডিপটেক বিনিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়। মহাকাশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে হ্যাথর (Hattar), কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে কোয়ানস্ট্রা (Quanstra), শক্তি প্রযুক্তিতে ট্রায়োল্ট এনার্জি (Triolt Energy) এবং জলবায়ু প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কারবেলিম (Carbelim)-এ বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা। গবেষণাগারে তৈরি গভীর বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিকে যাতে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগযোগ্য এবং উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, সেই পথই সুগম করবে এই ধরনের ফান্ড।আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ছাত্র ভাস্কর মজুমদার এবং রতুন লাহিড়ীর এই ভূমিকা প্রতিষ্ঠানটির কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গভীর বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং বাস্তব প্রভাব—এই চারটি ক্ষেত্রকে একই পরিসরে নিয়ে এসে ভারতের ডিপটেক ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাঁদের উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য ভাস্কর মজুমদার ও রতুন লাহিড়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইআইটি খড়গপুর। গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তিকে শিল্প ও সমাজের বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে ভারতের উদ্ভাবন-নির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।