আইআইটি খড়গপুরে বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র ডঃ পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জীকে সম্মাননা, ‘হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা!

নিজস্ব সংবাদদাতা:  প্ল্যাটিনাম জুবিলি বর্ষ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল আইআইটি খড়গপুর। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র ডঃ পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জী। ১৯৭১ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বি.টেক পাশ করা ডঃ চ্যাটার্জী আজাদ হলের ছাত্র ছিলেন। তাঁকে ঘিরেই এদিন ইনস্টিটিউট চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ আলাপচারিতা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানে আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীসহ একাধিক অধ্যাপক, শিক্ষক-কর্মী এবং বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, অধ্যাপক রিন্টু ব্যানার্জি, অধ্যাপক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক পুনিত কুমার পাত্র ডঃ চ্যাটার্জীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বিশ্বজুড়ে ইনস্টিটিউটের সুনাম বৃদ্ধি এবং গবেষণা-উদ্ভাবনে প্রাক্তন ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী ঘোষণা করেন যে শিল্প, গবেষণা ও উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডঃ পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জীকে ২০২৬ সালের জন্য আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ছাত্রদের ‘হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সাফল্য এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।মূল বক্তব্যে ডঃ চ্যাটার্জী আইআইটি খড়গপুরের শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বহু প্রজন্মের নেতা, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে শুধু প্রযুক্তিগত শিক্ষা নয়, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দেশ গঠনের মানসিকতাও গড়ে তোলা হয়।আলোচনার সময় তিনি আইআইটি খড়গপুর এবং টিসিজি ক্রেস্টের মধ্যে সম্ভাব্য দশ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রস্তাবও দেন। এই সহযোগিতার মাধ্যমে বুদ্ধিমান শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যান্সার ও স্বাস্থ্য গবেষণা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার মতো আধুনিক গবেষণা ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।ডঃ চ্যাটার্জীর মতে, আগামী দিনে আইআইটি খড়গপুরকে এমন গবেষণার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যা গভীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে রূপান্তর করতে সক্ষম। জ্ঞান থেকে সম্পদ সৃষ্টি এবং সেই সম্পদকে আবার জ্ঞানচর্চায় ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক চক্র গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।