আইআইটি খড়গপুরে হস্তশিল্পে প্রযুক্তির ছোঁয়া, দেশজুড়ে কারুশিল্পীদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালা শুরু ২৫ মার্চ!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশীয় হস্তশিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে বড় উদ্যোগ নিল Indian Institute of Technology Kharagpur। তাদের সদ্য গঠিত ‘ইউনিফাইড এআই-এনাবলড ক্রাফট ইকোসিস্টেম প্ল্যাটফর্ম’-এর অধীনে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর মাধ্যমে, ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের অধীন Development Commissioner Handicrafts-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হতে চলেছে প্রথম ‘ক্রাফট টুলকিট কর্মশালা’।“সৃষ্টি ও অনুসন্ধান” শীর্ষক এই কর্মশালাটি ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ২৫ মার্চ সকাল ১০:৩০AM, রাজেন্দ্র মিশ্র স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্টারপ্রেনারশিপে।এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতটি ভিন্ন হস্তশিল্প ধারার প্রতিনিধিত্বকারী মোট ১৫ জন বিশিষ্ট কারুশিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। তামিলনাড়ুর GI স্বীকৃত কাঠ খোদাই শিল্প, জম্মু-কাশ্মীরের খাতামবন্দ, অন্ধ্রপ্রদেশের উদয়গিরি কাঠের কাজ, উত্তর-পূর্ব ভারতের বেত-বাঁশ শিল্প, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কাঠশিল্প, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী কাঠের কাজ এবং ওড়িশার খোদাই শিল্প—সব মিলিয়ে এক সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন ঘটবে এই মঞ্চে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরের পুরস্কারপ্রাপ্ত মাস্টার কারুশিল্পীরাও রয়েছেন।এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল হস্তশিল্পের বিভিন্ন প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও উৎপাদন পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট নথিবদ্ধকরণ এবং কারুশিল্পী, গবেষক, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা। ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ প্রকল্পটি তিনটি স্তরে কাজ করছে—মাইক্রো স্তরে ডেটা ও পোর্টাল উন্নয়ন, মেসো স্তরে কর্মশালা ও ডিজাইন ভাণ্ডার তৈরি, এবং ম্যাক্রো স্তরে AI ও LLM-ভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডার নির্মাণ।কর্মশালায় কারুশিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব কৌশল প্রদর্শন করবেন, সরঞ্জাম ও উপকরণ নিয়ে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন এবং আইআইটি খড়গপুরের গবেষক দলের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়নমূলক আলোচনা করবেন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ ও ২৯ মার্চ বিশেষজ্ঞ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কারুশিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।এছাড়াও, পুরো কর্মশালার বিভিন্ন দিক ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ তৈরিতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পীরা নিজেদের তৈরি সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগও পাবেন।প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কর্মশালার সমন্বয়ক অধ্যাপক প্রিয়দর্শী পট্টনায়েক বলেন, “কারুশিল্পী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগেই ভারতীয় হস্তশিল্পের জন্য একটি টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই কর্মশালা সেই দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ।