নগর পরিকল্পনায় বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, IIT খড়গপুরের গবেষণায় বিশ্বজুড়ে আগ্রহ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : Indian Institute of Technology Kharagpur-এর গবেষকরা টেকসই নগর পরিকল্পনা ও জলবায়ু-সহনশীল শহর গঠনের লক্ষ্যে এক অভিনব বৈজ্ঞানিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যা শহুরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ু দূষণের সম্মিলিত প্রভাবকে একক স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সূচকে পরিমাপ করতে সক্ষম।“Integrated Heat and Pollution Index for Sustainable Urban Planning: Evidence from Delhi” শীর্ষক এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন আইআইটি খড়গপুরের Centre for Ocean, River, Atmosphere and Land Sciences (CORAL)-এর অধ্যাপক জয়নারায়ণন কুট্টিপ্পুরাথ এবং ভি. কে. প্যাটেল। গবেষণায় ‘আরবান হিউম্যান পলিউশন ইনডেক্স’ (UHPI) নামে একটি নতুন সূচক প্রবর্তন করা হয়েছে, যা একাধিক বায়ু দূষক এবং আরবান হিট আইল্যান্ড (UHI)-এর সম্মিলিত প্রভাবকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করে মানবস্বাস্থ্য ও নগর স্থায়িত্বের ঝুঁকি নির্ধারণ করে।২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল ‘Case Studies in Chemical and Environmental Engineering’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি নগর পরিবেশ

মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করেছে। এতদিন বায়ু দূষণ ও শহুরে তাপের প্রভাবকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হলেও, এই গবেষণা প্রথমবার সেই দুই উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবকে বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরেছে।গবেষকদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, মানবসৃষ্ট দূষণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শহরাঞ্চলে তাপ ও দূষণের পারস্পরিক প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে পরিবেশগত চাপ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। নতুন UHPI কাঠামোটি একই সঙ্গে তাপ ও দূষণের চাপে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ নগর হটস্পট চিহ্নিত করতে কার্যকর বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।দিল্লিকে কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল—বিশেষত মধ্য, পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কিছু এলাকায় UHPI মান অত্যন্ত বেশি। যা ওইসব অঞ্চলে উচ্চ পরিবেশগত চাপ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, সবুজে ঘেরা ও কম ঘনবসতিপূর্ণ প্রান্তিক এলাকাগুলিতে UHPI তুলনামূলকভাবে কম, যা ভবিষ্যতের টেকসই নগর সম্প্রসারণের সম্ভাব্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।গবেষণায় নগর পরিকল্পনায় সমন্বিত নীতিগত হস্তক্ষেপের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবুজ পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, নগর বায়ুচলাচল করিডোর তৈরি এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা গ্রহণ। গবেষকদের মতে, শুধুমাত্র দূষণ বা তাপমাত্রাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করলে শহুরে ঝুঁকির প্রকৃত মাত্রা অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়।বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, শহুরে তাপপ্রবাহ এবং বায়ুর মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, UHPI ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং পরিবেশ সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত-সহায়ক সরঞ্জাম হয়ে উঠতে পারে। গবেষকদের দাবি, উন্নয়নশীল ও উন্নত—উভয় ধরনের দেশের শহরেই এই কাঠামো প্রয়োগ করা সম্ভব এবং এটি জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর ভবিষ্যৎ গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম।