খড়্গপুরবাসীর জন্য বড় স্বস্তি! আইআইটি হাসপাতালে আসছে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক পরিষেবা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিল খড়্গপুর আইআইটি। খুব শীঘ্রই বলরামপুরে অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চালু হতে চলেছে এমআরআই (MRI), সিটি স্ক্যান (CT Scan) এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) পরিষেবা। স্বল্প খরচে এই অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার খড়্গপুর আইআইটির ৭২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে আইআইটির টেকনোলজি গেস্ট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলি চালুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই পরিষেবা চালু করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
ডিরেক্টর আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আউটডোর ও ডায়াগনস্টিক পরিষেবা চালু রয়েছে। আগামী দিনে সেখানে ইন্ডোর পরিষেবা এবং চিকিৎসা শিক্ষারও সূচনা হবে। এর ফলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও খড়্গপুর আইআইটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে।
তিনি জানান, প্রায় এক দশক আগে খড়্গপুরের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে মেন হাসপাতালের সঙ্গে আইআইটির একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এবার সেই সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আইআইটি ক্যাম্পাসে চালু করা হচ্ছে বিসি রায় মেডিক্যাল স্কুল। সুমন চক্রবর্তী বলেন, "প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আব্দুল কালামের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয় ঘটানো। ভারতের আইআইটিগুলির মধ্যে খড়্গপুর আইআইটির চিকিৎসা পরিকাঠামো সবচেয়ে উন্নত। আমরা সেই পরিকাঠামোকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাকেও আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে খড়্গপুর আইআইটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ২০ জন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি। তাঁরা খড়্গপুর রেলওয়ে মেন হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসা পরিষেবায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি হাসপাতালটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও আইআইটির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খড়্গপুর ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্বল্প ব্যয়ে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক পরিষেবা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।