চাঁদের গভীর রহস্য উন্মোচনে বড় সাফল্য আইআইটি খড়গপুরের, চন্দ্রযান-৪-এর আগে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি!
নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতের আগামী চন্দ্রাভিযানের আগে এক যুগান্তকারী গবেষণায় চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরলেন IIT Kharagpur-এর গবেষকরা। জাতীয় স্তরের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা ভারতের সম্ভাব্য Chandrayaan-4 অভিযানের দিকে নজর রাখছেন। ফলে এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণায় ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল Geochimica et Cosmochimica Acta-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রিসার্চ স্কলার Himela Maitra, অধ্যাপক Sujay Ghosh, রিসার্চ স্কলার Tamalkanti Mukherjee, অধ্যাপক Shaibal Gupta এবং অধ্যাপক Kuljeet Kaur Marhas।গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক উচ্চ-চাপ ও উচ্চ-তাপমাত্রার পরীক্ষার মাধ্যমে চাঁদের গভীরের চরম পরিবেশকে অনুকরণ করেছেন। বিশেষভাবে ‘ইলমেনাইট-সমৃদ্ধ কিউমুলেট’ নামে পরিচিত লোহা ও টাইটানিয়ামযুক্ত শিলার ওপর গবেষণা চালিয়ে তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে এই উপাদানগুলো আংশিকভাবে গলে টাইটানিয়াম-সমৃদ্ধ ম্যাগমা তৈরি করে—যা চাঁদের পৃষ্ঠে পাওয়া নমুনা ও মহাকাশযানের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।এই গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, চাঁদের ম্যান্টলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে ম্যাগমার গঠন, ঘনত্ব এবং শেষ পর্যন্ত পৃষ্ঠে তার উত্থানকে প্রভাবিত করে। এর ফলে চাঁদের আগ্নেয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে নমুনা সংগ্রহের সঠিক স্থান নির্ধারণ এবং কক্ষপথের তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি, এটি ভারতের নিজস্ব শিলাবিজ্ঞান ও গ্রহ গবেষণার সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।সব মিলিয়ে, এই সাফল্য শুধু বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতের নেতৃত্বকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।