হিজলির বন্দিশালা থেকে বিশ্বমানের জ্ঞানতীর্থ—৭৫ বছরে আইআইটি খড়্গপুর, প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী!

নিজস্ব সংবাদদাতা : স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তঝরা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিজলির সেই ঐতিহাসিক মাটি। সময়ের সঙ্গে সেই মাটিই হয়ে উঠেছে জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিচর্চার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র। ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট যে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ৭৫ বছর পেরিয়ে আজ সেই Indian Institute of Technology Kharagpur (আইআইটি খড়্গপুর) উদযাপন করছে তার প্ল্যাটিনাম জুবিলি।

আইআইটি খড়্গপুরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী। তাঁর উপস্থিতি ঐতিহাসিক এই উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম আইআইটি হিসেবে হিজলিতে এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর হাত ধরে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নতুন ভারত গঠনের যে স্বপ্ন স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেখা হয়েছিল, আইআইটি খড়্গপুর তার অন্যতম সফল বাস্তবায়ন।

প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবির, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায় এবং নলিনী রঞ্জন সরকারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ঐতিহাসিক হিজলি বন্দিশালার জায়গায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নেহরুর সেই সময়ের বক্তব্যও আজও স্মরণীয়। তিনি বলেছিলেন, হিজলি বন্দিশালার স্থানে স্বাধীন ভারতের এক অনন্য স্মৃতিসৌধ গড়ে উঠেছে।

৭৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় সেই স্বপ্ন আজ বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিকভাবে নিজের ছাপ রেখে চলেছে আইআইটি খড়্গপুর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়েও প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছরই দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নেয়।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন আইআইটি খড়্গপুরের অসংখ্য কৃতী প্রাক্তনী। তাঁদের সাফল্যও এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবের অন্যতম পরিচয়। ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বয়স পূর্ণ হল না, বরং স্বাধীন ভারতের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চার ৭৫ বছরের এক গৌরবময় যাত্রাকেও স্মরণ করা হল।