সংসদীয় পথ আপাতত বন্ধ, রাজনৈতিক লড়াই জারি!
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাব ৬ই এপ্রিল সোমবার প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজ করে দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব, অসদাচরণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তে সেই উদ্যোগে বড় ধাক্কা এল।গত ১২ মার্চ জমা দেওয়া এই নোটিশে রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদের সমর্থন ছিল। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ, ১২৪(৪) অনুচ্ছেদ, Judges (Inquiry) Act, 1968 এবং Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners Act, 2023-এর বিধান উল্লেখ করে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ ও সংযুক্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে চেয়ারম্যান তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বিষয়টি কার্যত থেমে গেল।বিরোধীদের নোটিশে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— দাপ্তরিক কাজে পক্ষপাতমূলক আচরণ, প্রমাণিত অসদাচরণ, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা এবং ব্যাপক ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ। বিরোধী শিবিরের দাবি, সাম্প্রতিক Special Intensive Revision (SIR)-এ বিশেষ করে বিহার ও ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ ছিল, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে যাতে সমাজের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, এর ফলে শুধু ভোটার তালিকার স্বচ্ছতাই নয়, গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপরও আঘাত লেগেছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-র পক্ষে পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগও সামনে আনা হয়।এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের সাংসদীয় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলেও, রাজনৈতিক লড়াই এখানেই থামছে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিরোধীরা বিষয়টি আদালত বা বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে যেতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।