স্পেনে ইতিহাস ভারতের, ব্রাজিলকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ফাউন্ডেশন ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা অনূর্ধ্ব-১২ দল!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতীয় ফুটবলের অন্দরে যখন নানা অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই স্পেনের মাটি থেকে এল গর্বের এক অসাধারণ খবর। রিয়াল মাদ্রিদ ফাউন্ডেশন ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের অনূর্ধ্ব-১২ ফুটবল দল। ফাইনালে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি জিতে নিল ভারতের খুদে তারকারা। স্পেনে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টকে খুদে ফুটবলারদের বিশ্বকাপ বলেই মনে করা হয়। অনূর্ধ্ব-১০, অনূর্ধ্ব-১২ এবং অনূর্ধ্ব-১৪—এই তিনটি বিভাগে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের এক হাজারের বেশি ফুটবলার অংশ নেয়। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার একাধিক শক্তিশালী দল এই প্রতিযোগিতায় লড়াই করে। সেই মঞ্চেই ভারতের অনূর্ধ্ব-১২ দল নজরকাড়া পারফরম্যান্সে সবার মন জয় করে নেয়। পুরো প্রতিযোগিতায় একের পর এক কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগিয়েছে ভারত। স্পেন, জার্মানি, আমেরিকা, উরুগুয়ে, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, কানাডা, মরক্কো এবং আজারবাইজানের মতো দলকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছায় তারা। শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় খুদেরা যে আত্মবিশ্বাস, গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ৩-০ গোলের দাপুটে জয় শুধু ট্রফি নয়, ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিতও তুলে ধরেছে। এই চ্যাম্পিয়ন দলটি তৈরি হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেছে নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে। দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, পুণে এবং বেঙ্গালুরু থেকে নির্বাচিত এই খুদে খেলোয়াড়রা স্পেনে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। তাঁদের হাতে ট্রফি তুলে দেন ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার Roberto Carlos, যা এই সাফল্যকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। শুধু অনূর্ধ্ব-১২ দলই নয়, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৪ দলও এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে। সেমিফাইনালে ইতালির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে ২-৩ ব্যবধানে হারলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই একই প্রতিযোগিতায় ছোটবেলায় খেলেছেন Kylian Mbappé এবং Vinícius Júnior-এর মতো বিশ্বতারকারাও। স্পেনের এই জয় শুধু একটি ট্রফি জেতার গল্প নয়, এটি ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক শক্তিশালী বার্তা। তৃণমূল স্তরে প্রতিভা খুঁজে এনে সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ করে দিলে ভারত যে বিশ্ব ফুটবলে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে, সেই বিশ্বাস আরও জোরালো হল এই সাফল্যে।