বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু আন্তর্জাতিক সেমিনার, বিদ্যাসাগরের চিন্তা থেকে কর্মের দর্শন নিয়ে দুই দিনের আলোচনা!

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও জীবন-জগৎ বিভাগে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র। “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দর্শন ও জীবন-জগৎ—চিন্তা থেকে কর্মে রূপান্তর” শীর্ষক এই সেমিনার ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই আয়োজন করা হয়েছে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের।বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও জীবন-জগৎ বিভাগের ২১০ নম্বর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং চারাগাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর, স্নাতকোত্তর কলা ও বাণিজ্য অনুষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী। অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা নামালি কুমারী হান্ডেগামা।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক তপন কুমার দে। স্বাগত ভাষণে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝাড়েশ্বর ঘোষ বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবলমাত্র একজন পণ্ডিত বা সমাজসংস্কারক নন; তিনি চিন্তা ও কর্মের এক বিরল সমন্বয়ের প্রতীক। তাঁর দর্শন সমাজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত ছিল এবং মানবকল্যাণই ছিল তাঁর চিন্তার মূল লক্ষ্য।উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর বলেন, বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারা একদিকে যেমন সংস্কৃত ন্যায়দর্শনের যুক্তিবাদী ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত, তেমনই পাশ্চাত্যের জ্ঞানালোকের যুক্তিবাদ থেকেও প্রভাবিত। এই দুই ধারার সৃজনশীল সমন্বয় তাঁর দর্শনকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যাসাগরের দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের দুঃখ লাঘব করা এবং সমাজে ন্যায় ও সাম্যের প্রতিষ্ঠা।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী। শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক পাপিয়া গুপ্ত।উদ্বোধনী পর্বের পর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শ্রুতিনাথ চক্রবর্তী। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় কারিগরি অধিবেশনের সভাপতিত্বও করেন। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক শিবাজীপ্রতিম বসু এবং উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নন্দিনী মিশ্র।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেমিনারের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রুতিনাথ চক্রবর্তী।

বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপিকা প্রিয়ম্বদা সরকার এবং আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নামালি কুমারী হান্ডেগামা।এই আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রের মূল লক্ষ্য উনবিংশ শতকের মহান সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দর্শন, মানবতাবাদ এবং সামাজিক কর্মধারার আন্তঃসম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা। বিশেষত নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ, ভাষা সংস্কার এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে পুনর্মূল্যায়ন করাই এই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।সেমিনারে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। মূল বক্তব্য, কারিগরি অধিবেশন এবং গবেষণাপত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের চিন্তা ও কর্মের ঐতিহাসিক ও দার্শনিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন গবেষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে তাঁর মানবতাবাদী দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।