ভোটের আগে আইপ্যাককে ঘিরে ইডির ‘অ্যাকশন’! বেঙ্গালুরু-হায়দরাবাদ-দিল্লিতে একযোগে তল্লাশি!

অভিজিৎ সাহা: বাংলার পর এবার ভিনরাজ্যে আইপ্যাকের (I-PAC) দপ্তরে ফের তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং দিল্লির একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান শুরু হয়। সূত্রের খবর, কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আইপ্যাকের এক ডিরেক্টর ঋষিরাজ সিংয়ের বেঙ্গালুরুর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। শহরের মোট তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে খবর। একই সময়ে হায়দরাবাদেও আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে সল্টলেকে যে তদন্তকারী দল অভিযান চালিয়েছিল, তারাই এই তল্লাশিতে যুক্ত থাকতে পারে। তবে দিল্লি ও হায়দরাবাদে ঠিক কতগুলি জায়গায় অভিযান হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিজের কাছে নিয়ে যান। তাঁর দাবি ছিল, সেগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি এবং তা বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি—তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এজেন্সির আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়েছে।গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও এখনও সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। তার মধ্যেই ফের আইপ্যাকের দপ্তরে একাধিক শহরে ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের মুখে এই অভিযান নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।