জলে ডুবে থাকলেই মিলত স্বস্তি, অনন্ত আম্বানির উদ্যোগে মুম্বইয়ে চিকিৎসাধীন মুর্শিদাবাদের ইকবাল
নিজস্ব সংবাদদাতা: গায়ে তীব্র জ্বালাপোড়া। জল থেকে উঠলেই অসহ্য যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিনের অধিকাংশ সময় পুকুরের জলে ডুবে থাকত মুর্শিদাবাদের ১৬ বছরের কিশোর ইকবাল শেখ। গলা পর্যন্ত জলে ডুবে থাকা ইকবালের একাধিক ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও নজরে আসার পরই তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেয় রিলায়েন্স গ্রুপ।জানা গিয়েছে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে কয়েকদিন আগে ইকবালকে আকাশপথে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে Sir H. N. Reliance Foundation Hospital-এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ইকবালের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। প্রথমদিকে এলাকার বিভিন্ন পুকুরে ঘোরাফেরা করলেও ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট পুকুরে দীর্ঘসময় কাটাতে শুরু করে সে। স্থানীয় বাসিন্দারা চিঁড়ে, বিস্কুট বা অন্যান্য খাবার দিলে তা খেয়েই দীর্ঘক্ষণ জলে ভেসে থাকত। জল থেকে উঠে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও সে কারও কথা শুনত না। তাকে বাড়িতে আটকে রাখার চেষ্টাও পরিবারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।দীর্ঘসময় জলে থাকার ফলে ইকবালের হাত-পায়ের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি সর্দি-কাশিতেও ভুগছিল সে। পরিবারের দাবি, ইকবালের মানসিক সমস্যারও চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে বিশেষ ফল মেলেনি। ইকবালের বাবা হাসিবুর শেখের মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। মা কামিরণ বিবি বিড়ি বেঁধে সংসার চালান। আর্থিক অনটনের কারণে ছেলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একসময় কার্যত চিকিৎসার আশাও ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার।এরই মধ্যে পুকুরের জলে ইকবালের দিনের পর দিন ডুবে থাকার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলি নজরে আসার পরই তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর তাকে মুম্বইয়ে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নজরদারিতে ইকবালের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার শরীরে কেন এত তীব্র জ্বালাপোড়া হয় এবং কেন জলে থাকলে সে তুলনামূলক স্বস্তি পায়—তার প্রকৃত কারণ বিস্তারিত চিকিৎসা পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুম্বইয়ের চিকিৎসকদের হাত ধরে দীর্ঘদিনের এই অস্বাভাবিক যন্ত্রণা থেকে কিশোরটি কতটা মুক্তি পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে তার পরিবার এবং স্থানীয় মানুষ।