ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুদ্ধবিরতির দাবির মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। ২৪শে মার্চ মঙ্গলবার ভোরে Iran নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় Israel-এর লক্ষ্য করে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও হামলার খবর সামনে এসেছে, যা গোটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলা আলোচনাকে “অত্যন্ত ইতিবাচক” বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও তেহরান সরাসরি এমন কোনও আলোচনার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি খণ্ড পশ্চিম তীরের কিফল হারিস গ্রামে এসে পড়েছে

ট্রাম্পের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দামও কিছুটা কমে, তবে নতুন হামলার পর সেই স্থিতি আবার প্রশ্নের মুখে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ওয়াশিংটন। হুঁশিয়ারি ছিল—তা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় বড়সড় হামলা চালানো হবে। পরে সেই ডেডলাইন আরও পাঁচ দিন বাড়ান ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন এক ‘শীর্ষস্থানীয়’ ব্যক্তির সঙ্গে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে সতর্কবার্তাও দেন—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশক্তি দিয়ে লাগাতার বোমা হামলা চালাবে।এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়েছে। তবে ময়দানের বাস্তব ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি খণ্ড পশ্চিম তীরের কিফল হারিস গ্রামে এসে পড়েছে

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের দিকে একটি বিকট শব্দ শোনার পর গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বিভিন্ন জায়গায় এসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দলও সেখানে পৌঁছে ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ড পরীক্ষা করে দেখছে বলে খবর।মঙ্গলবার ইসরায়েল ও Iraq-এর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এক শীর্ষ ইরানি নেতার মৃত্যুর পর তেহরান নতুন নিরাপত্তা প্রধানের নাম ঘোষণা করেছে। তারই মধ্যে পাল্টা আক্রমণের এই ধারা স্পষ্ট করছে—টানা বোমাবর্ষণ ও চাপ সত্ত্বেও ইরান এখনও আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।সব মিলিয়ে, আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।