ভারতের জ্বালানিতে ইরানের সহায়তা,হরমুজ প্রণালী থেকে ট্যাংকার দুটি নিরাপদে রওনা , ইরানের পদক্ষেপে স্বস্তির ইঙ্গিত!

নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছিল। ইতিমধ্যেই প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে সম্ভাব্য বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পেট্রোলিয়াম পণ্যের জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে ভারত কীভাবে প্রয়োজনীয় তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আশার বার্তা দিল ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য বোঝাই দুটি ট্যাংকারকে যাত্রার অনুমতি দেয় ইরান। এর ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি আগেই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, খুব শিগগিরই সুখবর মিলতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে পার হতে পারবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “নিশ্চয়ই পারবে। খুব শিগগিরই আপনারা তা দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে।” তারপরই ট্যাংকার দুটি ছেড়ে দেওয়া হল। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নয়া দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইতিহাসের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আমরা মনে করি ভারত আমাদের বন্ধু। অনেক বিষয়ে আমাদের আগ্রহ ও বিশ্বাস এক।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে কঠিন সময়েও ভারত বহু ক্ষেত্রে ইরানকে সহযোগিতা করেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এর ফলে অন্তত আপাতত ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে।