চন্দ্রকোনা কি আরামবাগ জেলায়? আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি আইনজীবী সমীর ঘোষের !
সুমন মণ্ডল: চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকৈ কেন্দ্র করে। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার অন্তর্গত হলেও, চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্র আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে। সেই কারণে ভবিষ্যতে আরামবাগ জেলা গঠনের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দারা। এ বিষয়ে চন্দ্রকোনা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষ ই-মেলের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন পত্র পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন চন্দ্রকোনাকে কোনভাবেই আরামবাগ জেলার অন্তর্ভুক্ত না করে বর্তমানের মতো ঘাটাল মহকুমার অধীনেই রাখা হোক। ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে ঘাটালের সঙ্গে চন্দ্রকোনা দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। চন্দ্রকোনা থেকে ঘাটালের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সেখানে আরামবাগের দূরত্ব প্রায়ই ৬০ কিলোমিটার। মেদিনীপুর শহরের দূরত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। ফলে আরামবাগ জেলার অন্তর্ভুক্ত হলে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজকর্ম যোগাযোগ ও পরিষেবা পেতে অতিরিক্ত সমস্যা সম্মুখীন হতে হবে। পূর্ববর্তী সরকার যখন আরামবাগ জেলা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখনো চন্দ্রকোনাকে তার বাইরে রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। ঘাটাল মহকুমা এবং পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে চন্দ্রকোনা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। চন্দ্রকোনা যেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অংশ হিসেবে থাকে অথবা ভবিষ্যতে যদি পৃথক ঘাটাল জেলা গঠিত হয়, তাহলে সেই জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হোক। একইসঙ্গে ঘাটাল কে পৃথক পুলিশ জেলা বা পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণার দাবিও তোলা হয়েছে। চন্দ্রকোনা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষ বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দলুই এবং সাংসদ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও ই-মেলে আবেদন জানিয়েছেন। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো।