ইন্দাসে ‘সেবাই আমার যোগদান’, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবিরে প্রতিদিন ৭০–৮০ জনের পরিষেবা

প্রেমচাঁদ ফৌজদার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে শুরু হওয়া ‘সেবাই আমার যোগদান’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে চলছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরে প্রতিদিন এলাকার বহু মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিতে আসছেন।স্বাস্থ্যকর্মী প্রিয়া কাইতির পরিচালনায় আয়োজিত এই শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। শিবিরে রক্তচাপ মাপার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি-সহ সাধারণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রক্তাল্পতা-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই শিবিরে। পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে মহিলাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন পুরুষ ও মহিলা এই স্বাস্থ্য শিবিরে এসে পরিষেবা নিচ্ছেন।শিবিরের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল প্রেসিডেন্ট রাধামাধব দে, সৌরভ সিংহ ও বাসুদেব দে। স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের কাজে যুক্ত রয়েছেন চন্দনা মণ্ডল, সোমা পণ্ডিত, রোশনারা বেগম-সহ আশা কর্মীরা। পাশাপাশি ভিভিডিসি কর্মীরাও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কাজও করা হচ্ছে। ভিভিডিসি কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় স্প্রে করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের সঙ্গে যুক্ত নানা কাজ করছেন। এই কাজে শ্রীকান্ত মাঝি, উৎপল দে-সহ আরও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।অঞ্চল প্রেসিডেন্ট রাধামাধব দে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের পর থেকেই ‘সেবাই আমার যোগদান’ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবিরের মতো বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।ইন্দাস ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই স্বাস্থ্য শিবিরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ স্থানীয় স্তরে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।