জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মিলল সুরাহা! ৯ বছরের অপেক্ষার অবসান, মাত্র ১০ মাসে চাষের জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার অবসান। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবশেষে চাষের জমিতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামের কৃষক শ্রীকান্ত মহাপাত্র। সরকারি আর্থিক সহযোগিতায় জমিতে বসানো মিনি পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জানিয়েও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মাত্র দশ মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মুখে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা শ্রীকান্ত মহাপাত্র কুলিয়ানা মৌজায় নিজের চাষের জমিতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতায় একটি মিনি পাম্প বসিয়েছিলেন। চাষের জমিতে জল সরবরাহের অন্যান্য ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলি যথেষ্ট ব্যয়বহুল হওয়ায় কৃষিকাজের সুবিধার্থে এই পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু পাম্প চালানোর জন্য নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই সংযোগ পাননি বলে তাঁর অভিযোগ।শ্রীকান্তের দাবি, প্রায় নয় বছর আগে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থানীয় গোপীবল্লভপুর ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিসে আবেদন করেছিলেন তিনি। এরপর একাধিকবার বিদ্যুৎ দফতর-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনি সহায়তার আশায় স্থানীয় ‘অধিকার মিত্র’ রীতা দাস দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সমাধান : সমস্যার সমাধানের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদীর কাছে লিখিত আবেদন জানান শ্রীকান্ত মহাপাত্র। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে একটি প্রি-লিটিগেশন মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গোপীবল্লভপুর ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিসের স্টেশন ম্যানেজারকে তলব করেন বিচারক।দীর্ঘ শুনানির পর বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশন ম্যানেজারের সহযোগিতায় সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়। অবশেষে মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা মোট সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি বসিয়ে শ্রীকান্ত মহাপাত্রের চাষের জমিতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেন।এরপর বুধবার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দফতরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন কৃষক শ্রীকান্ত মহাপাত্র।

উপকৃত হবেন প্রায় ৫০ একর জমির চাষিরা : নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর শ্রীকান্ত মহাপাত্র বলেন, “দীর্ঘ নয় বছরের সমস্যার সমাধান এত অল্প সময়ে এবং বিনামূল্যে হয়েছে। এর জন্য আমি অত্যন্ত খুশি। এই বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে আমাদের এলাকার প্রায় ৫০ একর জমির মালিক ও কৃষকেরা উপকৃত হবেন। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”কৃষিকাজে সেচের সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল শ্রীকান্তকে। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান হওয়ায় শুধু একজন কৃষকই নন, এলাকার আরও বহু কৃষকের উপকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়লে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতার সুযোগ নেওয়া যেতে পারে।