হিজলি হত্যাকাণ্ড দিবসে শহিদদের স্মরণ, খড়গপুরে নাগরিক সমাজের শ্রদ্ধার্ঘ্য!
অরিন্দম চক্রবর্তী : হিজলি হত্যাকাণ্ড দিবস উপলক্ষে বুধবার খড়গপুরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হল ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই শহিদ বিপ্লবী সন্তোষ কুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্তকে। খড়গপুর নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আইআইটি খড়গপুরের নেহরু মিউজিয়ামের সামনে হিজলি জেলের শহিদদের স্মৃতিতে মাল্যদান করা হয়।১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হিজলি বন্দিশিবিরে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হন বিপ্লবী সন্তোষ কুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত। তাঁদের হত্যার প্রতিবাদে তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু খড়গপুরে এসে শহিদদের মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যান এবং সেখানে বৃহৎ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
শহিদদের স্মরণে এদিন হিজলি জেলের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক স্থানগুলিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নাগরিক সমাজের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে হিজলি জেলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এই জেলের সঙ্গে বহু বিপ্লবীর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। মহিলা বিপ্লবীদেরও এখানে বন্দি রাখা হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।আয়োজকদের দাবি, হিজলি জেলকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুর তথা খড়গপুরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শ্রদ্ধার্ঘ্য অনুষ্ঠানে খড়গপুর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রাধাপদ দাস, শ্যামল ঘোষ, আসলাম আহমেদ, সমীর বেরা, ভাস্কর পাত্র, অভিষেক রায়চৌধুরী, কামরুজ্জামান, কাঞ্চনা রায়, অম্বিকা দাস-সহ অন্যান্যরা।
এদিন আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের কাছেও হিজলি জেল ও শহিদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির আরও গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের আবেদন জানানো হয়।
পাশাপাশি, আগামী দিনে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হিজলি হত্যাকাণ্ড দিবস আরও বৃহৎ পরিসরে পালনের আহ্বান জানান আয়োজকরা।
সেই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে তার সঙ্গে পরিচিত করতেই প্রতিবছর এই দিনটি স্মরণ করা হচ্ছে।