খড়্গপুরে ‘মেক’শপ-২৬’, ছোটগল্পের মান ও নির্মাণ নিয়ে জমজমাট সাহিত্য কর্মশালা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনী কথাচর্চার উদ্যোগে খড়্গপুর শহরের গোলখুলি দুর্গামন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা ছোটগল্পের মান, নির্মাণ ও বিনির্মাণ বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা ‘মেক’শপ-২৬’। এই সাহিত্যচর্চামূলক অনুষ্ঠানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিশিষ্ট গল্পকার, অধ্যাপক, গবেষক ও সাহিত্য অনুরাগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মশালায় ছোটগল্পের নানান দিক, আঙ্গিক, বিষয়বস্তু এবং আধুনিক ও উত্তর-আধুনিক ভাবনার বিস্তৃত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী গল্পকার ও শ্রোতারা মেদিনী কথাচর্চার উদ্যোক্তা নরেশ জানা, বিধান চন্দ্র রায়, শাজাহান কবির, সুকুমার কলা, সুনীল ভুঁইয়া, অনামিকা তেওয়ারি,অম্বর কান্তি কুমার,শ্বেতা সরকার, মিঠু মণ্ডল, যুথিকা দাস অধিকারী, জয়ন্তী রায় সহ অন্যান্য গুণীজনদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।প্রধান অতিথি ড. শ্যামলী রক্ষিত ,সিদ্ধার্থ সাঁতরা তাঁর বক্তব্যে রূপক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, রোমান্টিক, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, অতিপ্রাকৃত, ব্যঙ্গ ও গোয়েন্দা গল্পের নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী গল্পের রূপান্তর কতটা জরুরি হতে পারে। তাঁর কথায়, গল্পের গ্রহণযোগ্যতা স্থায়ী নয়, বরং তা সময়নির্ভর।অনুষ্ঠানের সূচনায় সভামুখ্য ড. মধুপ দে ছোটগল্পের নানা সূক্ষ্ম দিক নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা করেন। উদ্বোধক ও প্রারম্ভিক বক্তা ড. লায়েক আলি খান ছোটগল্পের শুরু ও সমাপ্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ ও অন্যান্য গল্পের প্রসঙ্গ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। আলোচনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।বিশিষ্ট গদ্যকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শুভশিস ঘোষ রূপক, সাংকেতিক ও বিমূর্ত ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাহিত্যিক সুবিমল মিশ্রর রচনাশৈলীও উঠে আসে তাঁর আলোচনায়। ঔপন্যাসিক ড. শ্যামলী রক্ষিত ছোটগল্পের অন্তর্বয়ন ও গঠন নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য রাখেন। শেষে অধ্যাপক অরিন্দম গোস্বামী “অনাখ্যানের কথা” বিষয়ের উপর আলোচনা করে আখ্যান ও অনাখ্যানের ভিন্ন মাত্রা এবং বিমল করসহ বিভিন্ন গল্পকারের লেখনীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।