জমি গেছে, কাজ মেলেনি! খড়্গপুরে শিল্প কারখানায় নিয়োগের দাবিতে সরব ১৬১ জমিদাতা পরিবার, ৯ মার্চ গণমিছিলের ডাক!
অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়্গপুর বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গড়ে ওঠা দুই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জমিদাতা পরিবারের বেকার ছেলে-মেয়েদের নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। Grasim Industries Limited (বিরলা) এবং Indian Oil Corporation-এর বটলিং প্ল্যান্টে কর্মসংস্থানের দাবিতে সরব হয়েছে বামপন্থী সংগঠন ‘ল্যান্ড লুজার জয়েন্ট মুভমেন্ট’ কমিটি। সোমবার,২ মার্চ ট্রাফিক গোলখুলি দুর্গা মন্দিরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, এই দুই কারখানার জন্য জমি দেওয়া ১৬১টি পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগের দাবি জানানো হচ্ছে।
জমিদাতাদের জমির দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, মালিকানার নথির জেরক্স কপি-সহ জমিদাতা পরিবারের ইচ্ছুক বেকার সদস্যদের নাম, সম্পর্ক, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত তালিকা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে বি-টেক, আইটিআই, ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমএ, বিএসসি, বিএ, উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও অষ্টম শ্রেণী পাশসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার যুবক-যুবতী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৩ জন তফসিলি জাতি ও ৭৭ জন তফসিলি উপজাতিভুক্ত জমিদাতা পরিবারের সদস্য বলেও জানানো হয়। অভিযোগ, সমস্ত তথ্য উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে জমা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়নি।
এমনকি এসআইআর চলাকালীন সময়েও মহকুমাশাসকের সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ মেলেনি। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি উপেক্ষা করে বাইরে থেকে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে জমিদাতা পরিবারগুলির মধ্যে। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, জমি নিয়ে শিল্প হয়েছে, কিন্তু কর্মসংস্থান হয়নি—এই বৈষম্যের অবসান চাই। পাশাপাশি, স্পঞ্জ আয়রন কারখানা থেকে নির্গত দূষণ বন্ধের দাবিও তোলা হয় সভা থেকে।কমিটির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ৯ মার্চ ২০২৬ দুপুর ২টায় রূপনারায়ণপুর ফ্লাইওভারের সামনে থেকে জমিদাতা ও এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়োগের দাবিতে বৃহত্তর গণমিছিল ও গণপ্রতিরোধ কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিহির পাহাড়ি, যুগল দোলই, সবিতা মানডি, অনিল দাস, অসিত সরকার, লক্ষণ হাসদা, লক্ষণ কিস্কু ও বিপ্লব ভট্ট। আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি—দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।