বর্ষার প্রথম ঝড়-বৃষ্টিতেই জলমগ্ন খড়গপুর! স্টেশন থেকে গোলবাজার—শহরজুড়ে দুর্ভোগ, ফের প্রশ্নের মুখে জলনিকাশি ব্যবস্থা!
অরিন্দম চক্রবর্তী : বর্ষার প্রথম দফার প্রবল বৃষ্টিতেই ফের জলমগ্ন খড়গপুর শহর। কয়েক ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত জলাশয়ে পরিণত হয়। খড়গপুর রেলস্টেশন চত্বর, সাবওয়ে, প্ল্যাটফর্ম, রেললাইন, রেলওয়ের ওয়াগন শপ এলাকা থেকে শুরু করে শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র গোলবাজার—সব জায়গাতেই দেখা যায় জলমগ্ন পরিস্থিতি। জল জমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয় খড়গপুর রেলস্টেশন এলাকায়। স্টেশনের সাবওয়ে সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রেললাইনেও জল জমে যায়। যদিও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল, তবে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনো এবং স্টেশন থেকে বেরনোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন বহু যাত্রী।প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়ে রেলওয়ের ওয়াগন শপ এলাকাতেও। বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যাওয়ায় কর্মীদের কাজকর্ম ব্যাহত হয়। একই ছবি দেখা যায় শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গোলবাজারে। দোকানের সামনে জল জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন, পাশাপাশি ক্রেতাদেরও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় রাস্তা কার্যত জলের তলায় চলে যায়। জলবন্দি হয়ে পড়ে একাধিক মোটরসাইকেল ও স্কুটার। চারচাকা গাড়িগুলিকেও ধীরগতিতে জল ঠেলে চলাচল করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও পথচারীদের হাঁটু সমান জল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। এর পাশাপাশি নর্দমার জল উপচে রাস্তায় উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।প্রতি বছর বর্ষা এলেই খড়গপুর শহরে জলমগ্নতার একই ছবি সামনে আসে। প্রশ্ন উঠছে, বছরের পর বছর ধরে জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলা হলেও কেন সামান্য কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ডুবে যায়? এবারও সেই পুরনো সমস্যাই ফের সামনে এনে দিল খড়গপুরের জলনিকাশি ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র।