খড়গপুরের গোকুলপুরের ১৬০ বছরের পুরনো লোধা বস্তি উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি!
নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়গপুরের গোকুলপুর স্টেশনের নিকটে অবস্থিত প্রায় ১৬০ বছরের পুরনো লোধা ঝুপড়ি বস্তি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। রেল প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বস্তিবাসী ও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোকুলপুর স্টেশনের কাছেই রেললাইনের প্রায় ২০০ ফুট দূরে অবস্থিত এই বস্তি দীর্ঘদিন ধরে লোধা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের কেন্দ্র।
বস্তিবাসীদের দাবি, জমিদারদের জমিতে গড়ে ওঠা এই বসতি খড়গপুর গ্রামীণ এলাকার অন্যতম প্রাচীন লোধা অধ্যুষিত এলাকা এবং এর ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো।অভিযোগ, সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ জমিটির দখল নেওয়ার পর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গতকাল বস্তির একাধিক কাঁচা ঘর ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে একই এলাকায় অবস্থিত একটি বাউন্ডারি ওয়াল অক্ষত থাকায় রেল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তিবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় বামপন্থী নেতা কমরেড অনিল দাস, যিনি ভীম দা নামে অধিক পরিচিত।
বৈঠকের পর তিনি জানান, পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা ছাড়া লোধা সম্প্রদায়ের মানুষকে উচ্ছেদ করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হবে।তিনি বলেন, “লোধা ঝুপড়ি বস্তির মানুষের পাশে আমরা রয়েছি। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দিয়ে উচ্ছেদ করা হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”এদিকে বস্তিবাসীদের নিয়ে খড়গপুর রেল প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে রেল প্রশাসন ও আরপিএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং বস্তিবাসীদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা তাঁদের জানানো হয়েছে।