স্বপ্ন আর সাফল্যের দশক—খড়গপুরে গ্রিফিনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জাঁকজমকপূর্ণ ১০ বছর উদযাপন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়গপুরের শিক্ষাঙ্গনে এক গর্বের মুহূর্ত। গ্রিফিনস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল তাদের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করল আড়ম্বর, আবেগ এবং সাফল্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে। গত শুক্রবার স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন শুধুই একটি উদযাপন নয়—ছিল এক দশকের নিষ্ঠা, স্বপ্ন আর অগ্রযাত্রার জীবন্ত দলিল।অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার সামলের নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের চেয়ারম্যান অভিষেক কুমার যাদব এবং প্রধান শিক্ষিকা সোনালী মহানন্দা।

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে পথচলা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও মূল্যবোধ গঠনে নিজেদের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্মৃতিচারণের আবেগঘন মুহূর্ত দিয়ে, যেখানে উঠে আসে স্কুলের পথচলার নানা অধ্যায়। এরপর ‘গণেশ বন্দনা’-র মাধ্যমে পরিবেশ ভরে ওঠে ইতিবাচক শক্তিতে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘The Student’s Examination’-এর উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের নাট্য পরিবেশনা, যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য ও সঙ্গীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

বিশেষ করে ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা এক শক্তিশালী নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও মঞ্চে উঠে গান ও নাচে অংশ নিয়ে ‘গ্রিফিনস পরিবার’-এর ঐক্য ও আন্তরিকতাকে জীবন্ত করে তোলেন।চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে বলেন, এই দশক শুধু সাফল্যের নয়, এটি একসঙ্গে পথচলার স্মৃতি ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তিনি বোর্ড পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অসামান্য ফলাফলের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠান সর্বদা পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হলেও আবেগের রেশ থেকে যায় সকলের মনে।

পরে খড়গপুরের গ্রিনল্যান্ড হোটেল-এ আয়োজিত প্রীতিভোজে শিক্ষক ও কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। ‘বর্ষসেরা টিম প্লেয়ার’, ‘সেরা শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষক’-এর মতো পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা সকলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করে।দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল এক আবেগঘন মাইলফলক, যা অতীতের গৌরবকে স্মরণ করিয়ে ভবিষ্যতের আরও উজ্জ্বল পথচলার প্রতিশ্রুতি দিল।