ভর্তির দ্বারে তালা! স্কুলছুট মেয়েকে ভর্তি করাতে ঘুরছেন মা, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা দপ্তর?
নিজস্ব সংবাদদাতা : গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে নিজের স্কুলছুট মেয়েকে নিকটবর্তী খড়্গপুর সাউথ সাইড হাই স্কুল (হিন্দি মিডিয়াম)–এ ভর্তি করানোর জন্য একাধিকবার স্কুলে যান এক অসহায় মা। অভিযোগ, প্রতিবারই খড়্গপুর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আদিত্য ত্রিপাঠী নানা অজুহাতে তাঁকে ফিরিয়ে দেন।শেষমেশ ছাত্রীটির মা হামিদান বিবি সাহায্যের আবেদন জানান মিল্লাত এডুকেশন এন্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও রাজা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন–এর কাছে।
এরপর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শেখ আসলাম আহমেদ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, অভিযোগ অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেন।বিষয়টি জানানো হয় সংশ্লিষ্ট চক্রের এসআই দেবনাথ পান্ডা–কে। কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপের বদলে তিনি উদাসীনতার পরিচয় দেন বলেই অভিযোগ।এরপর পশ্চিম মেদিনীপুর স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একাধিক স্তরে—এডিআই, ডিআই, ডিইও, এডিএম (শিক্ষা) ও ডিএম–সহ জেলার শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। গত ১৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট স্কুলকে চিঠি দিয়ে ছাত্রীকে ভর্তি নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন।পরবর্তীতে সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশে ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টরও স্কুলকে ভর্তি নেওয়ার জন্য চিঠি দেন। তবুও নাকি একই অবস্থান বজায় রাখেন শিক্ষক এবং ছাত্রী ও তার মায়ের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ।ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টরকে জানালে তিনি জানান, চিঠি দেওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছু করার নেই। এই পরিস্থিতিতে হতাশ মায়ের প্রশ্ন—একটি জেলার গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা কি একজন স্কুলছুট শিশুকে স্কুলে ভর্তি করাতে অক্ষম? তাঁর মেয়ে কি আর পড়াশোনার সুযোগ পাবে না? এখন কোথায় যাবেন, কার কাছে বিচার চাইবেন—এই প্রশ্নই ঘুরছে তাঁর মনে?