দেশপ্রেম ও জাতি গঠনের অঙ্গীকারে আইআইটি খড়গপুরে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশপ্রেমের আবেগ ও জাতি গঠনের নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আইআইটি খড়গপুরে পালিত হল ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। বিধান চকে আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত, গার্ড অফ অনার, শপথগ্রহণ এবং পরিচালকের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়।ঐতিহাসিক হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে আইআইটি খড়গপুরের পথচলার ইতিহাস স্মরণ করে অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের ত্যাগ ও আত্মবলিদানের উত্তরাধিকারকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।তিনি বলেন, “খড়গপুরের শুধু একটি আইআইটি-র আয়োজক হলেই চলবে না; এখানে একটি আইআইটি রয়েছে বলেই খড়গপুরের দৃশ্যমান পরিবর্তন হওয়া উচিত।”নিজের বক্তব্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, গ্রামীণ উদ্যোগ, নারী ক্ষমতায়ন, ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং সমাজভিত্তিক উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এমন একটি আইআইটি গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেন, যা বিশ্বমানের উৎকর্ষ বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকবে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে পরিচালক বলেন, দেশপ্রেম শুধু আবেগ বা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার সমাধান, প্রযুক্তির সুফল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি শিশুকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়াই দেশপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এরপর নেতাজি অডিটোরিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে। আইআইটি খড়গপুরের ক্যাম্পাস স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীরা দেশাত্মবোধক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। তাঁদের পরিবেশনায় ভারতের স্বাধীনতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ফুটে ওঠে।